চুনারুঘাট প্রতিনিধি | ০৪ নভেম্বর, ২০১৭
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ছয়শ্রী গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শনিবার সারা রাত সেখানে উদযাপিত হবে মণিপুরীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহারাসলীলা উৎসব।
শনিবার (১১ নভেম্বর) ভোর ৫টায় মণিপুরী ঐতিহ্যের ১৭৪তম বাৎসরিক প্রধান ধর্মীয় উৎসব উত্তর ছয়শ্রী মহাপ্রভু মণ্ডপে মঙ্গল আরতির মাধ্যমে শুরু হয়ে উৎসব রোববার ভোররাত পর্যন্ত চলবে।
মহারাসলীলা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বীরেশ্বর সিংহ জানান, মঙ্গল আরতির মাধ্যমে উৎসব শুরুর পর দুপুর ১টায় মহাপ্রভুর ভোগ আরতি ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রী কৃষ্ণের গোচারণ লীলা এবং রাত সাড়ে ১০টা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত হবে মহারাসলীলা। রাতের অনুষ্ঠান হয় আকর্ষণীয়। সেখানে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরাসহ গণ্যমান্য অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও জানান, মহারাসলীলা উপলক্ষে সেখানে গ্রাম্য মেলা বসেছে। কৃষি সরঞ্জাম, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, ঘর কন্যার সামগ্রীসহ নানা দ্রব্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
প্রতি বছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অনাড়ম্ভরভাবে অনুষ্ঠিত হয় মহারাসলীলা। চুনারুঘাট উপজেলার মণিপুরী অধ্যুষিত ছয়শ্রী গ্রামে আশ্বিন মাসের শুরুতেই উৎসবের সাড়া পাওয়া যায়। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকেও মণিপুরী সম্প্রদায়সহ জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে অনেকেই ছুটে আসেন মহারাসলীলা উপভোগ করতে। মণিপুরী নৃত্যকলা শুধু ছয়শ্রী নয়; গোটা ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বিশ্বের নৃত্যকলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান দখলে করে আছে। মহারাসলীলায় শিশু থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী সবার স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণে রাতের বেলায় রাস উৎসব হয়ে উঠে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
রাখাল নৃত্য দিনের বেলায় হলেও রাখাল নৃত্যের পর থেকেই সন্ধ্যায় শুরু হয় রাসলীলা। শুরুতেই পরিবেশিত হয় রাসধারীতের অপূর্ব মৃদঙ্গ নৃত্য। মৃদঙ্গ নৃত্য শেষে প্রদীপ হাতে নৃত্যের তালে তালে সাজানো মঞ্চে প্রবেশ করেন শ্রী রাধা সাজে সজ্জিত একজন নৃত্যশিল্পী বৃন্দা। তার নৃত্যের সঙ্গে বাদ্যের তালে তালে পরিবেশিত হয় মণিপুরী বন্দনা সঙ্গীত। শ্রীকৃষ্ণ রূপধারী বাঁশি হাতে মাথায় কারুকার্য খচিত ময়ূর গুচ্ছধারী এক কিশোর নৃত্যশিল্পী তার বাঁশির সুর শুনে রজগোপী পরিবেশিত হয়ে শ্রী রাধা মঞ্চে আসেন। শুরু হয় সুবর্ণ কংকন পরিহিতা মণিপুরী কিশোরীদের নৃত্য প্রদর্শন। স্থানীয় শিল্পীদের এই পরিবেশনা সবাইকে বিমোহিত করে।