হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৩ জুন, ২০১৫
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলা অবশেষে বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। মঙ্গলবার হবিগঞ্জ আমলী আদালত থেকে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে মামলাটি বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম নিশাত সুলতানা হবিগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের জেএম শাখার মাধ্যমে মামলাটি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সেখানে ১৩৫ কার্যদিনের মধ্যে মামলাটির বিচার কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন কিবরিয়া পরিবারের আইনজীবি।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারী হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া এমপি। ঘটনার পরদিন এ ব্যাপারে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিচারের জন্য মামলাটি প্রেরণ করা হয় সিলেট দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি আদালতে। বাদী পক্ষের বারবার নারাজি ও তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মামলাটির বিচারকাজ বিলম্বিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে হবিগঞ্জের আমলী আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। হবিগঞ্জের আদালতে আইনী প্রক্রিয়া শেষ হলে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে মামলাটি সিলেট দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি আদালতে বিচার হবে। ফলে সেখানকার আদালতেই আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হবে। আগামী ২১ জুন সিলেটের দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি আদালতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
মঙ্গলবার মামলার কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক নিশাত সুলতানা জানান, মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত, বদলী হবে। আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজুর উদ্দিন শাহিন ও অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ মামলা স্থানান্তরের কারণ জানতে চাইলে বিচারক জানান, ইতিমধ্যে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে মালামাল ক্রোকের আদেশ তামিল হয়ে এসেছে। পরবর্তিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য আইনী প্রক্রিয়াও সম্পন্ন। এ অবস্থায় মামলাটি জেএম শাখার মাধ্যমে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্রেরণ করা হল। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দেবেন। যেহেতু মামলাটি সিলেট দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি আদালতে বিচারের জন্য রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেই আদালতেই তা প্রেরণ করা হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার এই মামলার নির্ধারিত তারিখে কারাগারে আটক সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের মেয়র জি কে গউছসহ কোন আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে মামলায় ১ম চার্জশীটভূক্ত ৮ আসামী হাজিরা প্রদান করেন। হাজির হওয়া আসামীরা হলেন জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল কাইয়ুম, বিএনপি কর্মী আয়াত আলী, সেলিম আহমেদ, সাহেদ আলী, জয়নাল আবেদীন জালাল, জমির আলী, জয়নাল আবেদীন মোমিন ও ছাত্রদল কর্মী মহিবুর রহমান। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ জুন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর ভূইয়া বাবুল জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার নিয়ে এখন আর কোন অনিশ্চয়তা নেই। সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালকে অবশ্যই ১৩৫ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে হবে। কিবরিয়া হত্যা মামলার ৫ম দফা সম্পুরক চার্জশীটভূক্ত আসামীর সংখ্যা ৩৫ জন। এর মধ্যে ৮ জন জামিনে, ১৫ জন জেল হাজতে ও বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরীসহ ১০ জন আসামী পলাতক রয়েছেন। আর ২ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন। এতে আহত হন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপিসহ ৪৩ জন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান এমপি বাদি হয়ে সদর থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিস্পোরক আইনে দায়েরকৃত মামলার অধিকতর তদন্ত করছেন সিআইডির এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল।