Sylhet Today 24 PRINT

আজ থেকে শ্রীমঙ্গলে চালু হচ্ছে চা নিলাম কেন্দ্র

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আজ চালু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত চা নিলাম কেন্দ্র। চট্টগ্রামের পর দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা-নিলাম কেন্দ্র চালু হচ্ছে শ্রীমঙ্গলে।

আজ শুক্রবার এই নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
 
ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের সকল প্রস্তুতি। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছেন বলে জানান, শ্রীমঙ্গল ক্লোনেল চা বাগানের মালিক সৈয়দ মনসুরুল হক ও চা নিলাম বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জহর তরফদার।

দেশের সিংহভাগ চা সিলেটে উৎপাদন হলেও দেশের এতোদিন একমাত্র চা নিলাম কেন্দ্র ছিলো চট্টগ্রামে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সংশ্লিষ্ঠদের হিসেব মতে দেশের ১৬২টি বাগানের মধ্যে ৯৩টি চা বাগান মৌলভীবাজার অঞ্চলে অবস্থিত। গত বছর দেশে সর্বোচ্চ ৮৫.০৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎদপাদন হয়। দেশে গড়ে ৭ কোটি কেজি উৎপাদিত চায়ের মধ্যে সিলেটেই উৎপাদন হয় ৬ কোটি কেজি চা। আবার সিলেটে উৎপাদিত এই চায়ের ৭৫ ভাগই উৎপাদিত হয় মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে।

সিলেটে উৎপাদিত চা নিলামের জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে হয়। এজন্য পরিবহন ব্যায়সহ অন্যান্য খরচের জন্য বেড়ে যায় চায়ের দাম। যার কারনে ব্যাবসায়ীরা আগ্রহ কমে যায়। এজন্য মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের দাবি তুলেন সংশ্লিষ্ঠরা।

এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে ২০১১ সালে ’শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়। সেই সংগঠন সিলেট বিভাগের ব্যাসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার সফরকালে শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা- নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে নিলাম কাজ পরিচালনার জন্য ’টি প্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (টিপিটিএবি) নামে একটি কমিটি আত্মপ্রকাশ করে। এই কমিটি নিবন্ধনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত (২৪ নভেম্বর) শ্রীমঙ্গলে টি হেভেন রিসোটের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন এবং টি প্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিপিটিএবি) আয়োজিত সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক টিপিটিএবির নিবন্ধনপত্র হস্তান্তর করা হয়।

এক সময় দেশের উৎপাদিত ৯০ ভাগ চা-ই বিদেশে রপ্তানি করা হতো। আর সমুদ্র বন্দরের কারনে চট্টগ্রামে স্থাপন করা হয় চায়ের অকশন হাউজ। বর্তমানে দেশে চায়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আর রপ্তানি হয় না বলে জানান বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট ব্রান্স চেয়ারম্যান জি এম শিবলী।

মৌলভীবাজার এম আর খান চা বাগানের মালিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সিলেটের চা বাগান গুলোর ফেক্টরী থেকে চা ট্রাকে লোড করে কয়েক রাউন্ড তেরপাল ও পলিথিন মুড়িয়ে তার পর সিলগালা করে নিলামে উঠানোর জন্য পাঠানো হয় চট্টগ্রাম অকসন হাউজে। কিন্তু এতে পোহাতে হয় নানান বিপত্তি। কখনও পথে হয় চুরি, বৃষ্টির সময় চায়ে জমে মহেসচার। ট্রান্সপোর্টের কারনে সময়মতো অকসনে অনেক বাগান অংশগ্রহনও করতে পারেন না। আর এ থেকে পরিত্রান পেতে বিগত ৩০ বছর ধরে  শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানিয়ে আসছেন এ এলাকার মানুষ।

বিটিআরআই এর প্রাক্তন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকতা চা বিজ্ঞানী- শাহ্ কামাল লানচু হক জানান, চা বাগান মালিকরা দাবী করে আসছিলেন শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের। আর তাদের দাবীটিও নায্য ছিলো কারণ চায়ের মুল উৎপাদনের প্রায় ৯০ ভাগই সিলেট বিভাগে উৎপাদিত হয় সেহেতু শ্রীমঙ্গলেই চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপন তাদের যৌক্তিক দাবী । সে সময় একবার উদ্যোগ গ্রহন করাও হয়েছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে চা পাঠানোর সময় চায়ে আদ্রতা সংযুক্ত হয়ে চায়ের গুনগত মান কমে যায়।

এদিকে শ্রীমঙ্গলে দেশের ২য় চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: নেছার আহমদ। তিনি জানান, ২০১২ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে শ্রীমঙ্গলে, পরে মৌলভীবাজারে বক্তৃতায় শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চা বোর্ড, শ্রীমঙ্গল চা নিলাম বাস্তবায়ন পরিষদ ও বানিজ্যমন্ত্রনালয় দীর্ঘ কর্মযজ্ঞের পর শ্রীমঙ্গলের চা নিলাম কেন্দ্রকে এখন উদ্বোধনের মহেন্দ্র ক্ষনে নিয়ে এসেছেন।  

টি প্লান্টার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন এর নেতা শেখ লুৎফুর রহমান জানান, বিগত ৪ বছর ধরে অকশন সেন্টার, ওয়ার হাউজ, ব্রোকার হাউজ তৈরী করে তারা ভাড়া প্রদান করে আসছেন। যত দ্রুত সম্ভব এটি উদ্বোধন ততই তাদের জন্য মঙ্গল।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম জানান, মৌলভীবাজারকে বলা হয় চায়ের দেশ এবং শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় চায়ের রাজধানী। মৌলভীবাজার জেলায় ৯৩টি চা বাগন রয়েছে। তাই এ জেলাই চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপন সময়ের দাবী। এখানে চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপিত হলে চা বাগান মালিকরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি লাভবান হবেন যারা চায়ের ক্রেতারাও। আর বর্তমান সরকার সে আলোকেই কাজ করছে।

উল্লেখ্য, আজ শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি, বিশেষ অতিথি থাকবেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি। উপস্থিত থাকবেন উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি ও পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ। এছাড়া আজ সকালে শ্রীমঙ্গলের ইছবপুরে নির্মিত রাবার কাট ট্রিটমেন্টপ্যান্টেরও  উদ্বোধন ও গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্টে সকাল ৯টায় ২৬ তম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন এবং গাইনী ও অবস সোসাইটি অব বাংলাদেশের ৪৪ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন অর্থমন্ত্রী।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.