Sylhet Today 24 PRINT

৮ বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে সেই শিশু পার্ক

উত্তম কাব্য  |  ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

২০০৬ সালে দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে শিশু পার্কটির নির্মান কাজ। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পার্কের নির্মান কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালে। তবে নির্মান শেষেও প্রায় আট বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো পার্কটি। অবশেষে এই শিশু পার্কটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

তবে চালুর আগে বদলে যাচ্ছে নাম। ‘সাইফুর রহমান পার্ক’-এর বদলে ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’ নামে চালু হচ্ছে এই পার্ক। নামকরণ সংক্রান্ত জটিলতায়ই এতদিন এই পার্কটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিলো বলে সংশ্লিস্ট একটি সূত্র জানা গেছে।

পার্কটি চালুর জন্য রাইড বসানোর কাজ শুরু হয়েছে ও চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ। চায়নার ডকইর্য়াড কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ কাজ করছে।

সিলেট সিটি করর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৬ মাসের মধ্যে এই পার্ক চালু হবে। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সিলেটবাসী একটি অত্যাধুনিক শিশুকিশোর পার্ক পেতে যাচ্ছেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন রাইড বসানোসহ পার্কটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করতে ১০থেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রথমেই সিটি করর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পার্কের ভেতরে গজিয়ে উঠা জঙ্গল পরিষ্কার করে নিচ্ছেন। পাশাপাশি চলছে বিভিন্ন রাইড নির্মানের কাজ।

পার্কে ১০ থেকে ১৫টি রাইড বসানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে রয়েছে- রেলগাড়ি, স্লিপার, সসরাইড, বোট, হানি, সুইং, নাগরদোলা প্রভৃতি।

এনামুল হাবীব বলেন, সিটি কর্পোরেশন এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে। টিকিটের মাধ্যমে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন।

জানা যায়, ২০০৬ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রচেষ্টায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ সুরমার হবিনন্দী মৌজার ৩.৪৪ একর ভূমির উপর শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মাটি ভরাট করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পর্যাপ্ত আলোর জন্য বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপন, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণসহ পার্কের যাবতীয় কাজ ২০০৯ সালে শেষ হয়। অবকাঠামোগত দিক থেকে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলো পার্কটি।

জানা যায়, তৎকালীন বিএনপি নেতাদের আগ্রহে এই পার্কটির নামকরণ করা হয় দক্ষিন সুরমা এম সাইফুর রহমান শিশু পার্ক। শুধু এই নামকরণের কারনে পার্কটি ফেলে রাখা হয়েছিলো।

সম্প্রতি পার্কের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, চর্তুদিকে সুবিশাল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা পার্কটি। পুরো সীমানা প্রাচীরের ১০ ফুট অন্তর অন্তর করে ফ্লাড লাগানো আছে। এছাড়া পুরো পার্কে পর্যাপ্ত আলোর জন্য বিদ্যুতের একটি সাব-স্টেশনও রয়েছে। পার্কটির রয়েছে ৩টি ফটক।এর মধ্যে সামনের দিকে ২টি ও সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে একটি ফটক রয়েছে। সেখানে একটি ঘাটও নির্মাণ করা হয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, পার্কেও ভেতরে আগাছা পরিষ্কার করছেন ও আবর্জনা আগুনি পুড়িয়ে দিচ্ছেন কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। একটি নৌকা নির্মান করে পার্কের ভেতরে রাখা রয়েছে।

পার্কে রাইড বসানোর কাজ তদারকিতে থাকা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ৭ নভেম্বর থেকে রাইড বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।  আপাতত নকশার কাজ শেষ হয়েছে।

আলমপুর এলাকার বাসিন্দা অয়ন কুমার দে বলেন, অনেক বছর আগে থেকেই শুনছি এখানে পার্ক নির্মিত হবে। চারিদিকে দেয়াল নির্মিত হলেও আজ পর্যন্ত পার্কের কোনো কিছুই চোখে পড়েনি। এই পার্ক চালু হলে নগরীর শিশু-কিশোরদের চিত্ত বিনোদনের একটি সুযোগ তৈরি হবে।

গোটাটিকেরর ব্যবসায়ী মো. রানা পাটুয়ারী বলেন, র্দীঘদিন ধরেই পার্কটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিছনের গেইট ভাঙা থাকায় রাতের অন্ধকারে এখানে জুয়া, মাদকদ্রব্য সেবন সহ নানা খারাপ কাজ চলে। দীর্ঘদিন পর হলেও এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় নগর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.