Sylhet Today 24 PRINT

প্রাণের বিনিময়ে পাথর

ফিরে দেখা ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

২০১৭ সালে সিলেটে অবৈধভাবে পাথর তুলতে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের বেশিরভাগই শ্রমিক। পাথর তোলার সময় টিলা ধসে মারা যান তারা। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর হিসেবে চলতি বছরে সিলেটে পাথর তুলতে গিয়ে মারা গেছেন ২৮ জন।

২০১৭ সালে সিলেটের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল পাথরখেকোদের লোভের ফাঁদে পড়ে টিলা-কোয়ারিতে ধসে মাটি চাপায় নিহতের ঘটনা।

২৩ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের মতিয়ার টিলা ধসে ৫ শ্রমিক মাটিচাপায় নিহত হন। এই ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়; যাদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন। এই ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়; যার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে কোয়ারিতে যন্ত্র ব্যবহার বন্ধ ও টিলাকাটার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জাফলং, ভোলাগঞ্জ ও শাহ আরেফীন টিলাসহ কয়েকটি কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ও। তবু এসব নিষেধাজ্ঞা মানছে না পাথরখেকোরা।

প্রকৃতি ধ্বংসের মহাযজ্ঞ সিলেটে অব্যাহত ছিল বছরজুড়েই। ৩ নভেম্বর এমন অনাকাঙ্খিত ধ্বংসযজ্ঞের শিকার শাহ আরপিন টিলা ধসে দু’জন আহত হয়। ৭ নভেম্বর কানাইঘাটের বাংলা টিলা ধসে ৫ শিশুসহ ৬ জন মাটি চাপায় নিহত হলে নতুন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। এসব ঘটনার পর একদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু অভিযান চালানো হলেও পাথরখেকোদের দৌরাত্ম থামেনি।

সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচপালক সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া সিলেটে পাহাড় টিলায় কাটায় উচ্চ আদালতের নিধেঅজ্ঞা রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই গোপনে পাথর উত্তোলন করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। দরিদ্র শ্রমিকদের এ কাজে ব্যবহার করে তারা। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়-টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন সময় টিলা ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই, মামলা করি, তবু পাথর উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না।

পরিবেশ আইনবিদ সমিতি  (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার জানান, চলতি বছরে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকালে ২৮ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা ধসে ৫ জন, ১ ও ১১ ফেব্রুয়ারি একই টিলা ধসে ২ জন, শাহ আারেফিন টিলা ধসেই ২ ও ৬ মার্চ, ২০ জুলাই এবং ২৬ অক্টোবর আরো ৪ জন মারা যান।  

গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দিতে পাথর উত্তোলনকালে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মারা যান ৩ শ্রমিক। একই উপজেলার জাফলংয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২ জন, ২১ ফেব্রুয়ারি ২ জন এবং ৮ মার্চ ও ১৬ মার্চ ৩ জন শ্রমিক মারা যান এছাড়া কানাইঘাটের লোভাছড়ায় পাথর উত্তোলনকালে মারা যান আরও এক শ্রমিক।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.