নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭
অবেশেষ দেশে ফিরছেন সুনামগঞ্জের হাওরের বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি মামলার আসামি ঠিকাদার আব্দুল হান্নান। রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ বিমানের (বিজি-২০২) ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেন সিলেটের এই যুবলীগ নেতা।
গ্রেপ্তারে পরোয়ানা থধাকায় দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ আটকে রাখে হান্নানকে। এ সময় উচ্চ আদালতে মামলার স্থিতাবস্থার কাগজপত্র দেখানোর পর ছাড়া পান এই ঠিকাদার।
ওসমানী বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বশির আহমদ জানান- সকাল সাড়ে ৯টায় যুক্তরাজ্য থেকে আসা বিমানের ফ্লাইটে দেশে আসেন হান্নান। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেখেছিলাম। তবে উচ্চ আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুদকের সব মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার কাগজপত্র প্রদর্শন করেন। দুদক থেকেও এব্যাপারে আমাদের অবগত করা হয়। যে কারণে তাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে।
আব্দুল হান্নান সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে দুদকের করা মামলার ২১ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর এই মামলার কার্যক্রম তিনমাসের জন্য স্থগিত করে উচ্চ আদালত।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়- পুলিশ হান্নানকে ছেড়ে দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের স্ত্রী ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে তাকে রিসিভ করে নিয়ে আসেন।
সুনামগঞ্জের বোরো ফসলহানির পর গত ২ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বাদী হয়ে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ২১ নম্বর আসামি মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার আব্দুল হান্নান।
দুদকের মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ জন ছাড়াও সুনামগঞ্জের ১৩ জন, ঢাকার ৯ জন, সিলেটের ৬ জন, কুমিল্লার ৩ জন, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও সাতক্ষীরার ২ জন করে এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, পটুয়াখালি, খুলনা ময়মনসিংহ, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার একজন করে ঠিকাদারকে আসামি করা হয়।
অভিযুক্ত ঠিকাদারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ পেয়েছিলেন ফরিদপুরের খন্দকার শাহীন আহমদ, টাঙ্গাইলের মো. আফজালুর রহমান, সুনামগঞ্জের সজীব রঞ্জন দাশ ও সিলেটের আব্দুল হান্নান। হান্নান নয়টি বাঁধের কাজ পেয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্র জানায়- ওয়ারেন্টিভুক্ত আসামি হওয়া স্বত্ত্বেও গত ১৪ নভেম্বর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সিলেটের তামাবিল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিলেট আদালতের পিপি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সঙ্গে স্বপরিবারে ঘুরে বেড়ানোর ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দিলে সমালোচনার জন্ম দেন হান্নান। তার সঙ্গে বিতর্কে পড়েন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজও।
আলোচিত এ মামলার আসামির প্রকাশ্যে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া এবং তার সঙ্গে রাষ্ট্রের একজন আইন কর্মকর্তার বিদেশ যাওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ দেশে ফিরলেও আব্দুল হান্নান স্বস্ত্রীক যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন।