Sylhet Today 24 PRINT

জাফলংয়ে নদী দখল করে ফের গজিয়েছে সেই সেতু

অপসারণের নির্দেশ প্রশাসনের

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৩ জানুয়ারী, ২০১৮

পাথর পরিবহনের জন্য জাফলংয়ে ডাউকি নদীর উপর ফের অবৈধভাবে বেইলি সেতু বসিয়েছেন স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা। এই সেতু দিয়ে পাথরবাহি ট্রাক যাওয়া আসার জন্য নদী ভরাট করে নির্মাণ করেছেন সংযোগ সড়ক। ফলে ডাউকি নদী দিয়ে পানি প্রবাহ ও নৌকা চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন জাফলংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের সীমান্তবর্তী নদী ডাউকি। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এ নদী। পাহাড়ি ঢলের সাথে নেমে আসা বালি আর অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনে এমনতিইে শুষ্ক মৌসুমে নব্যতা সঙ্কটে পড়ে ডাউকি। নদী শুকিয়ে প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাথর ব্যবসায়ীরা সেতু বসিয়ে দেওয়ায় নদীটি আরো সঙ্কটে পড়বে বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা।

এরআগেও কয়েকবছর এই নদীতে অবৈধভাবে সেতু বসিয়ে নদীর উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্তে ট্রাক দিয়ে পাথর নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। গত বছর উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর সেতুটি তুলে দেয় প্রশাসন। এবার আবার শুষ্ক মৌসুম আসার পরপরই সেতু নির্মাণ শুরু করেন পাথর ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুষ্ক মৌসুমে জাফলংয়ের ডাউকি নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর দক্ষিণ প্রান্তে আর পাথর পাওয়া যায় না। ফলে উত্তর প্রান্ত থেকে পাথর উত্তোলন করতে হয়। এই পাথর দক্ষিণপ্রান্তে ট্রাকযোগে নিয়ে আসার জন্য অস্থায়ীভাবে কয়েকদিনের জন্য সেতু নির্মান করা হয়। তবে এতে পানি প্রবাহে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় না।

তারা জানান, চলতি মৌসুমে সেতুটির নির্মাণ কাজ কেবল শেষ হয়েছে। এখনো পাথর পরিবহন শুরু হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলংয়ের নির্ধারিত কোয়ারি এলাকায় এখন আর পাথর পাওয়া যায় না। তাই ডাউকি নদীর উত্তর প্রান্তে ভারতীয় সীমান্ত সংলঘ্ন জিরো পয়েন্ট থেকে পাথর উত্তোলন করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন নদীর উত্তর প্রান্ত থেকে সংগৃহিত পাথর দক্ষিণ প্রান্তে নিয়ে আসার সুবিধার্থে নদীর মাঝখানে একটি লোহার সেতু বসিয়ে দিয়েছের পাথর ব্যবসায়ীরা। আর এই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য বড় বড় পাথর ও বালির বস্তা দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে প্রায় অর্ধেক নদী। এই সেতু আর সংযোগ সড়ক দিয়ে নদীর এপার থেকে ওপারে আসা যাওয়া করে পাথর বোঝাই ট্রাক।

তারা জানান, ৩-৪ বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে কিছু প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ীরা ডাউকি নদীতে বাঁধ দিয়ে মাঝখানে সেতু বসান। পরে ওই বাঁধ দিয়ে চলাচলকারী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করেন তারা।

সরেজমিনে বুধবার জাফলং গিয়ে দেখা যায়, নদীর মাঝখানে একটি লোহার সেতু বসানো হয়েছে। নদী ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে আগেই।
এই সেতু এলাকা পেরিয়েই জাফলংয়ে পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্থান জিরো পয়েন্টে যেতে হয়। কিন্তু সেতুটি নিচু হওয়ায় এর তলা দিয়ে ছোট নৌকাও যাতায়াত করতে পারছে না। এতে জাফলংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বিপাকে পড়েছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি  (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহিদা আক্তার বলেন, নদী আইনে এ ধরণের সেতু নির্মান একেবারেই অবৈধ। তারউপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবু প্রতিবছরই অসাধু ব্যবসায়ীরা নদীর উপর এ সেতু তৈরি করে। বুধবার তিনিও সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে ডাউকী নদীর উপর বেইলি সেতু দেখতে পান বলে জানান তিনি।

শাহেদা বলেন, জাফলংকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এসব নির্দেশনা অমান্য করে সেখানে চলছে পরিবশে বিধ্বংসী কার্যক্রম।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, আমি আজকেই (বুধবার) এই সেতু নির্মাণের কথা শুনেছি। সাথেসাথেই সেটি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি। তারা অপসারণ না করলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

এ ব্যাপারে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানম বলে, পাথর ব্যবসায়ীরারা নদীতে সেতু নির্মানের কে? তারা সেতু বানাতে পারলে তো পদ্মাসেতুই এদের দিয়ে বানিয়ে নেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি এবং সেতু অপসারণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.