হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৯ জুন, ২০১৫
হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক হাসপাতালে এক নারী স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ আরশেদ আলী। এসময় তিনি ওই প্রসূতি নারীর স্বজনদের গালিগালাজ করেন। এর আগে তিনি সিজার করানো নিয়ে রোগীর স্বজনদের সাথে দর কষাকষি করেছিলেন। এসব উল্লেখ করে মঙ্গলবার সিভিল সার্জন বরাবরে অভিযোগ করেছেন প্রসূতি
নারীর স্বজনরা।
অভিযোগ উল্লেখ করা হয়, সদর উপজেলার রিচি গ্রামের পরিবহন শ্রমিক নাসির মিয়ার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী হোছনা বেগমকে গত ৪ জুন সকালে জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হোছনা বেগমের তীব্র প্রসব বেদনা থাকায় হাসপাতালেই সিজার করানোর জন্য স্বজনরা ডাঃ আরশেদ আলীকে অনুরোধ করেন। প্রথমে ডাঃ আরশেদ সিজারের সময় হয়নি বলে রোগীদের অপেক্ষা করতে বলেন। পরে হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুবিধা নেই উল্লেখ করে তিনি তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় তারা জেলা আধুনিক হাসপাতালেই সিজার করানোর জন্য আবারো ডাঃ আরশেদকে অনুরোধ জানান। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। উপায়ান্তর না দেখে তারা সিভিল সার্জন ডাঃ নাছির উদ্দিন ভূঞা’র সাথে যোগাযোগ করলে সিভিল সার্জন জেলা হাসপাতালে সিজার করানোর জন্য ডাঃ আরশেদ আলীকে অনুরোধ জানিয়ে স্লিপ দেন। তখন ডাঃ আরশেদ আলী হাসপাতালে এনেস্থিসিয়া’র ডাক্তার নেই এমন অজুহাত দেখান। রোগীর স্বজনরা দ্রুত জেলা আধুনিক হাসপাতালের সাবেক এনেস্থিসিস্ট ডাঃ দেলোয়ারকে হাসপাতালে আসতে রাজি করান। এদিকে বিকেল ৪টায় অফিস সময় শেষ হয়েছে উল্লেখ করে ডাঃ আরশেদ আলী বাসায় চলে যান। পরে বিভিন্ন ভাবে তদবির করলে রাত ৮টায় তিনি হাসপাতালে অপারেশন করতে সম্মত হন। এরই মধ্যে রাত সাড়ে ৭টায় হোছনা বেগম হাসপাতালের নার্সদের সহযোগিতায় স্বাভাবিক ভাবেই পুত্র সন্তান প্রসব করেন। রাত ৮টায় ডাঃ আরশেদ হাসপাতালে এসে রোগীর খোঁজ করে বিষয়টি জানতে পারেন। এতে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তিনি। রোগীর স্বজনসহ কর্তব্যরত নার্সদের অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে হাসপাতালের অন্যান্য ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
মঙ্গলবার সকালে এসব বিষয় উল্লেখ করে হোছনা বেগমের ভাসুর কুতুব আলী সিভিল সার্জন বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। কুতুব উদ্দিন জানান, ডাঃ আরশেদ আলী তার সহকারী দিলারা বেগমের মাধ্যমে টাকা নিয়েই হাসপাতালে সিজার করান। তার বাড়ি সদর-লাখাই আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরের গ্রামে হওয়ায় ডাঃ আরশেদ ধরে নেন কোন টাকা পাবেন না। তাই তিনি হোছনাকে হাসপাতালে সিজার না করিয়ে সিলেট রেফার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, হোছনা এর আগে ৩ বার সিজারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এবার তিনি ৩৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। বিধি অনুযায়ী তার দ্রুত সিজার করানো উচিত ছিল। নতুবা জরায়ু ফেটে তার মৃত্যুর সম্ভাবনা ছিল। ভাগ্য ভাল হওয়ায় তিনি স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসব করেছেন। সাধারণত ৩ বার সিজারের পর মায়েদের স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসবের ক্ষমতা থাকে না।
এ ব্যাপারে ডাঃ আরশেদ আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সিভিল সার্জন ডাঃ নাছির উদ্দিন ভূঞা জানান, তিনি বর্তমানে সিলেট অবস্থান করছেন। তবে বিষয়টি তিনি শুনেছেন। হবিগঞ্জ এসে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।