জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ২৮ জানুয়ারী, ২০১৮
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা কয়েকটি বেড়িবাঁধে এখনো কাজ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তবে জগন্নাথপুরের বেড়িবাঁধ কাজের দায়িত্বরত সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও ফয়জুল্লাহ জানান, যথাসময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
এদিকে শনিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে হাওর পরিদর্শন করতে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন। জেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর পরির্দশনকালে এমন দৃশ্য দেখা যায় হামহামি খালের নিটকস্থ ভূরাখালী সড়কে।
সরেজমিনে হাওর পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ভূরাখালী সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্টু দাসকে নিয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিও জগন্নাথপুর উপজেলার স্লুইস গেট সংস্কারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তোফাজ্জুল হোসেন নলুয়ার হাওর পরিদর্শনকালে স্থানীয় কৃষকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও (জগন্নাথপুরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের দায়িত্বরত কর্মকর্তা) মনে করে মোটরসাইকেল আটকে দেন। স্থানীয় কৃষকরা তার কাজে জানতে যান, কেন এখনও নলুয়ার হাওরের বাঁধে একধলা মাটি পড়েনি? এবার যদি ফসল পানিতে তলিয়ে যায় তাহলে এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে? আমরা এত কষ্ট করে চাষাবাদ করছি। আপনাদের কারণে সেই ফসল নষ্ট হতে পারে না।
এ সময় ওই কর্মকর্তা কৃষকদের বলেন, ‘আমি হাওরের স্লুইস গেট (রেগুলেটর) সংস্কারের দায়িত্বে রয়েছি। বেড়িবাঁধের দায়িত্ব আমার নয়। এক সপ্তাহের মধ্য স্লুইস গেটগুলো মেরামত করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই হাওরে এসেছি। এ কথা শুনার পর কৃষকরা শান্ত হন।
কৃষক আকিকুর রহমান জানান, গত বছরের পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নিম্নমানের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ফসলডুবির ঘটনা ঘটে। এবার ১০ হাল (১২০ কেদারা) জমিতে বোরো আবাদ করেছি এবার।
এখনো হাওরের বেড়িবাঁধে মাটি পড়েনি। যে কারণে শঙ্কায় আছি। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে হাওরের ফসল রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নলুয়ার হাওর ঘুরে দেখা যায়, বৈশাখী, শাল্লিকা, ডুমাখালি, দাসনাগাঁও কুরেরপাড়, হালেয়া পতিত, ভূরাখালি রাখাল গাছসহ বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধে কাজ শুরু হয়নি।
দাসনাগাঁও বেড়িবাঁধের পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ক কমিটি) সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্টু দাস জানান, বেড়িবাঁধের ওয়ার্ক অর্ডার (কাজের লিখিত অনুমতি) পাননি তিনি। কৃষকদের কথা চিন্তা করে নিজের উদ্যোগে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করেছেন বাঁধের কাজে। সরকারি কোন বরাদ্দ এখনো পাননি বলে তিনি জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শওকত উসমান মজুমদার বলেন, উপজেলার নলুয়া, মইয়া, পিংলাসহ ছোট বড় ১৫টি হাওরের প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসলের চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বছর ৮১টি সিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ক কমিটি) গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, যে সব বাঁধের ওয়ার্ক অর্ডার হয়নি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই সব বাঁধের অর্ডার প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।