নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ জানুয়ারী, ২০১৮
২০১৮ সালকে বলা হচ্ছে নির্বাচনী বছর। এই বছরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর বছরের প্রথমার্ধেই সিলেটসহ ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এই দুই নির্বাচনের জন্য তৃণমূলে দলকে সংগঠিত ও উজ্জীবীত করতে ঢাকার বাইরে সফরে বের হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই তিনি আসছেন সিলেটে।
৩০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সিলেটের মাধ্যমে নিজের এই নির্বাচনী সফর শুরু করছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা।
দলীয় প্রধানের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। সিলেটজুড়ে অনেকটা আগেভাগেই নির্বাচনী আমেজ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে আসন্ন সিটি ও জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে, এমনটি মনে করছেন দলীয় নেতারা। ফলে এই জনসভায় গুরুত্ব পাচ্ছে নির্বাচনকেন্দ্রিক ভাবনা।
সিটি ও জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সবচেয়ে তৎপরত। শহরজুড়ে তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন টানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নজরকাড়ার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সিটি মেয়র আর বিভিন্ন আসনের সাংসদ প্রদপ্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরী।
আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় ব্যাপক শো-ডাউনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জনসভায় লোক সমাগমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চান তাঁরা। আর দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগও সরকারকের শেষ সময়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা ঝালাই করে নিতে চাচ্ছে। কোন্দল আর বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেও এই জনসভাকে দেখছেন সিলেটের শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতারা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভের জন্যে এই জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেবেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের কর্মতৎপরতা শুরু হবে। এই জনসভার মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, মঙ্গলবারের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে সিলেটবাসী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জনসভাস্থল জনসমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রে পরিণত হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ জমায়েত হবে।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ২০১৮ সাল হলো নির্বাচনের বছর। এবছর সিটি নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করেই প্রধানমন্ত্রী আসছেন। ফলে নেতাকর্মীরাও উজ্জীবীত। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তাঁর সফরে দলের ঐক্য আরো শক্তিশালী হবে। যা আগামী নির্বাচনগুলোতে প্রভাব ফেলবে। মঙ্গলবার গোটা সিলেট শহরই একটা মাঠে পরিণত হবে।
সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চেয়ে নগরজুড়ে ব্যানার ফেস্টুন টানালেও আলীয়া মাদ্রাসার জনসভা থেকে প্রার্থীর ব্যাপারে কোনো ঘোষণা আসবে না বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, জনসভা থেকে প্রার্থীর ব্যাপারে কোনো ঘোষণা আসবে না। এটা নির্বাচনী বোর্ড নির্ধারণ করবে। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নৌকার পক্ষে ভোট চাইবেন। প্রার্থী যে কেউ হতে পারেন।
আর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ৩০ জানুয়ারি এই উৎসব মহাউৎসবে পরিণত হবে।