নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ জানুয়ারী, ২০১৮
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পারাইরচক। সিলেট নগরীর সকল বর্জ্য এই এলাকায় ডাম্পিং করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। পারাইচকের পেছনেই ভাড়েরা বিল। বিস্তৃর্ন কৃষি জমি ও জলাধার।
আবর্জনা ফেলার স্থানের সামন দিকে সিসিক সীমানা দেওয়াল নির্মান করলেও পেছন দিকটা উন্মুক্ত। ফলে বৃষ্টিতে আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিল জুড়ে। এতে উর্বরতা হারিয়ে ফেলেছে কৃষি জমি, ভরাট হয়ে পড়েছে জলাশয়। ক্লিকিকেল বর্জ্যের কারণে কৃষি জমি আর জলাশয়ে নামলেই হাত-পা কেটে মারত্মক আহত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। এছাড়া এলাকার পরিবেশেও বিপর্যয় নেমে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে এভাবে উন্মুক্তভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় রোববার দুপুরে দক্ষিণ সুরমার ভারেরা বিলের উত্তর পাড়ে মানববন্ধন করে কৃষক ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি, দক্ষিণ সুরমা।
মানববন্ধন থেকে পরিশোধন ছাড়া বর্জ্য ফেলা বন্ধ, ক্লিনিকেল বর্জ্য আলাদা স্থানে ফেলা ও বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ করে চারপাশে সীমানা দেওয়াল নির্মানের দাবি জানানো হয়।
কৃষক ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির আহবায়ক ও কুচাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আনা মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব, সিলেট জেলা কৃষকলীগ নেতা শামীম কবির এর পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- কৃষি ক্ষেত্রে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ২৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল বাছিত সেলিম, ২৬নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি মন্তর মিয়া, সুদৃষ্টি সমজ কল্যাণ সংস্থার আহবায়ক শাহ বদরুজ্জামান, সদস্য সচিব নজির আহমদ।
কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মাসুক মিয়া, লিলু মিয়া, আনু মিয়া, শাওন, ছানা মিয়া, হেলাল, শাহেদ, জালাল, সহির, বাবুল মিয়া, বিলাল, বাচ্চু মিয়া, আতা, কামাল, জালাল, রানা, শানুর, বাবুল, শরি, নিখিল, অবোধ, লিটন, খানু, বালুক, রতন, কাচা মিয়া, গেদা মিয়া, রশিদ, সিদ্দিক, সজিব আলী, ছালিম, সুলেমান, হারুন মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনা উন্মুক্ত ভাবে ফেলার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ বর্জ্য অত্র এলাকার পরিবেশ দুষিত করার পাশাপাশি কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট করছে এবং ভাড়েরা বিলের এক হাজার একর জমির ফসলাদি নষ্ট হচ্ছে। বিলের মাছ প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এখানকার জমিতে কৃষকরা চাষাবাদ করতে নামলেই পা, হাত কেটে অনেকেই আহত হয়ে কাজ-কর্ম থেকে বিরত রয়েছেন।
বক্তারা আরো বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করার পরও কোন সুরাহা না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সর্বদা আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সফরকালে এ বিষয়টির সুরাহা করার জন্য তাঁরা আহবান জানান।