কুলাউড়া প্রতিনিধি | ২৯ জানুয়ারী, ২০১৮
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ, গাড়ি চালক ও যাত্রীরা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাড়িয়ে থেকেও অনেক গাড়ি গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। এর ফলে সিএনজি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের সাথে গাড়ি চালকদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে।
চাহিদার তুলনায় জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লি. কর্তৃপক্ষ ফিলিং স্টেশনগুলোতে অপেক্ষাকৃত অর্ধেকেরই কম গ্যাস ব্যবহারের নির্দেশ প্রদান করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপর ১২টার দিকে গ্যাস সংকটের কারণে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজারস্থ গ্রীণভিউ সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের ওপর গাড়ি দাড় করিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্যাস ফিলিং করতে আসা গাড়ি চালকেরা।
প্রায় ঘণ্টা খানেক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ফিলিং স্টেশন ঘেরাও করেন চালকেরা। এর ফলে এ সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লি. কুলাউড়া আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক এর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গ্রীণভিউ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মাসিক ১ লক্ষ ৪হাজার ৩২২.৮০ ঘনমিটার এর বেশি গ্যাস ব্যবহার না করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।
এ ব্যাপারে গ্রীণভিউ সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার প্রশান্ত দাস জানান, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লি. কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকরই কম গ্যাস ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা বেধে দেওয়ায় ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন কুলাউড়াসহ বড়লেখা, জুড়ী, কমলগঞ্জ উপজেলার ৩ সহস্রাধিক বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও সিএনজি অটোরিকশা আমাদের এখানে গ্যাস ফিলিং করতে আসে। এই ফিলিং স্টেশন চালুর সময় ১ লক্ষ ৪ হাজার ৩৩২.৮০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় গড়ে প্রতিদিন এক হাজার গাড়ি গ্যাস ভরতে আসতো। কিন্তু বর্তমানে ফিলিং স্টেশনে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণ। বর্তমানে এই ফিলিং স্টেশনে মাসিক ২ লক্ষ ২০ হাজার ঘন মিটার গ্যাস প্রয়োজন হয়।
কর্তৃপক্ষ গ্যাস ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা বেধে দেওয়ায় চাহিদা থাকা স্বত্বেও সব গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হয় না। সরকারি নির্দেশ মোতাবেক প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এখন গ্যাস সংকটের কারণে বিকেল তিনটা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হয়। এতে চালকরা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। আজ (সোমবার) গাড়ি চালকেরা গ্যাস না পেয়ে আমাদের ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না করেন তাহলে সব গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম মুসা জানান, দুপুরে ব্রাহ্মণবাজার গ্রীণ ভিউ ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ি চালকেরা গ্যাস সংকটের কারণে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সংকট সমাধানের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লি. কুলাউড়া আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আওলাদ হোসেন জানান, ফিলিং স্টেশনের চালুর সময় চাহিদা অনুযায়ী অনুমোদিত গ্যাস ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে চাহিদার ব্যাপারে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া এ ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই।