জামালগঞ্জ প্রতিনিধি | ৩০ জানুয়ারী, ২০১৮
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামারগাঁও মৌজায় আদালতের রায় অমান্য করে সরকারি জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) এলাকাবাসীর পক্ষে লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল হাই'র ছেলে মো. প্রবাল মিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামারগাঁও মৌজার জেএল নং ১১৯, খতিয়ান নং ১ দাগ নং ৩৪, এরিয়া ১.১৭ ডোবা রকম ভূমি সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির স্বার্থে প্রতি বছর ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় ইজারা প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিগত ২ বছর যাবত কামারগাঁও গ্রামের আব্দুছ ছত্তার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ডিজেল পাম্প বসিয়ে সরকারি জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
অভিযোগে আরো জানা যায়, তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা শফি কামালকে বিষয়টি অবহিত করলে, সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ডিজেল মেশিন জব্দ করেন এবং কোন পক্ষকেই ভোগদখল না করার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে এ বছরও আব্দুছ ছত্তার ডিজেল পাম্প বসিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। মাছ ধরে ইতিমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রিও করেছে। এতে করে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি সরকারি জলাশয় অন্যের দখলে চলে যাচ্ছে। অভিযোগে সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি সম্পদ লুন্ঠকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে কামারগাঁও গ্রামের মৃত মকরম আলীর ছেলে অভিযুক্ত আব্দুছ ছত্তার বলেন, তিনি তপশীলকৃত ভূমিতে সহকারি জজ আদালত জামালগঞ্জ স্বত্ব মোকাদ্দমা ৩৩/২০১১ দায়ের করলে ২০১৩ সালের ২১ জুলাইয়ের রায় ও ৭/৮/২০১৩ সালের ৭ আগস্ট ডিগ্রি বিপক্ষে চলে যায়। পরবর্তীতে এই আদেশের বিরুদ্ধে বাদি আব্দুছ ছত্তার আপীল মোকাদ্দমা ১২৮/২০১৩ দায়ের করলে। ২০১৬ সালের ৩ মার্চ আদালত স্থিতাবসস্থা প্রদান করেন। যা এখনও মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে তফশীলদার আস আদ সরেজমিনে সোমবার দেখে এসে বলেন, তফশীলকৃত জলাশয়টি সরকারি। আদালতের স্থিতাবস্থায় রয়েছে। কেউ ভোগ দখল না করতে বলে এসেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল ইমরান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ভীমখালী তফশীলদারের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে ভোগদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।