শাহ শরীফ উদ্দিন | ৩০ জানুয়ারী, ২০১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদ দমনে সরকার কঠোর। আওয়ামীলীগ সরকার শান্তিতে বিশ্বাসী। কারণ শান্তি ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না। শান্তি থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জঙ্গিবাদ দমনে পিতা মাতাকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন “ সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কি করছে এসব বিষয়ে যেন পিতা মাতা খোঁজ রাখেন।”
এসময় তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিএনপির আমলে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়। বিএনপি সরকারের সময় দুর্নীতিতে পাঁচ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। তখন সারা বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তিনি পরিসংখ্যান টেনে বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বরং নির্বাচন বন্ধ করার জন্য হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালের মধ্যে বিএনপি শহীদ মিনার ভাঙচুর করে, সিএনজি চালককে পুড়িয়ে হত্যা করে, চলন্ত বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়, লঞ্চে আগুন লাগায়, হত্যা কওে ৫ শত মানুষ, আহত হন ৩ হাজার মানুষ, আগুনে দগ্ধ হন ৩ হাজার ৬ শত মানুষ, ২৯টি রেল গাড়ি পোড়ানো হয়, ৭০ সরকারী প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এ জনসভায় সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান এড. লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ও মহানগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ইমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, সাবেক এমপি সৈয়দা জেবুন্নেসা হক, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহের এমপি, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেসার আহমেদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামানস চৌধুরী, কৃষিলীগ সভাপতি মোতাহের হোসেন মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, যুব মহিলা লীগ সভানেত্রী নাজমা আক্তার, যুব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল হক আতিক, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, স্বাচিবের মহাসচিব ডা. মুরশেদ আহমদ চৌধুরী, শ্রমিকলীগ সভাপতি এজাজুল হক, মহানগর কৃষকলীগের সভাপতি মুমিন চৌধুরী, মহানগর শ্রমিকলীগ সভাপতি এম শাহরিয়ার কবির, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শাহানারা বেগম, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি রুবি ফাতেমা ইসলাম, জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামিম আহমদ, যুব মহিলা লীগ নেত্রী জিন্নাত আলম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিলেট মহানগরের সভাপতি আফতাব উদ্দিন, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম তুষার।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দওে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার, হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার ও গাজী বোরহান উদ্দিনের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন।
মাজার জিয়ারত শেষে বেলা পৌনে ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত সিলেট সার্কিট হাউসে জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্ন-বিরতির জন্য অবস্থান করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৩টায় জনসভাস্থলে উপস্থিত হওয়া প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেয়া শুরু করেন বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে।