Sylhet Today 24 PRINT

এক চিকিৎসকে আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা!

জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ |  ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

দুই বছর ধরে চিকিৎসক নেই, আসবাবপত্রও নেই, রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংঙ্কট। এমন দুরবস্থার কবলে থাকা হাসপাতালটির নাম দিঘলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি দিঘলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ফলে ১৯২১ সালের দিকে নির্মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুটি ভবনই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে বিশ্বনাথ, ছাতক ও সিলেটের জালালাবাদ উপজেলার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা চলছে ভারপ্রাপ্ত একজন চিকিৎমক দিয়ে। আর সেটিও ডাক্তার কোয়ার্টারে। সংস্কার নয়, জরুরী ভিত্তিতে দিঘলীর ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুন:নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সচেতন মহল।

সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ও সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, ২০১১ সালে সাংসদ থাকাকালে তিনি ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে আধুনিক হাসাপাতালে রূপ দিতে উদ্যোগ নেন এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্যে একটি ডিও লেটার প্রদান করেন। কিন্তু এতদিন পরও সেখানে ভবন নির্মাণ না হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং আবারও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তিনিও সুপারিশ করবেন বলে জানান।

তবে, বর্তমান এমপি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহা সচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া জানান, অপারেশন থিয়েটারসহ সম্পুর্ন একটি অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে ইতিপূর্বে তিনিও ডিও লেটার দিয়েছেন। যেকোন সময় টেন্ডার হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।    

জানা গেছে, সিলেটের বিশ্বনাথ ও সদরের জালালাবাদ এবং ছাতক উপজেলার দুই শতাধিক রোগীরা চিকিৎসা নিতে প্রতিদিনই ভীড় জমান দিঘলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত চিকিৎসা সেবার মান উন্নত থাকলেও তৎপরবর্তী সময় জনবল সংকটসহ নানা কারণে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না ওই অঞ্চলের  জনসাধারণ।

২বছর ধরে মেডিকলে অফিসার, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফার্মাসিষ্ট ও এমএলএসএস পদটি শূন্য রয়েছে। যে কারণে ডেপুটেশনে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ডা. লাকী খাতুন নামের এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার।

আশপাশে কোন হাসপাতাল না থাকা আর উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে ছাতকের দিঘলী, মাধবপুর, রামপুর, দত্তপুর, পুরানবাজার, শিবনগর, শেখপুর, তকিপুর, বুড়াইরগাঁও, গোবিন্দনগর ও বিশ্বনাথের মান্দাবাজ, বশিরপুর, তালুকজগৎ, সাহেবনগর, উদয়পুর, খালপার, পুরান দিঘলী, পাঠানোগাঁও এবং সিলেট সদর-জালালাবাদ উপজেলার লালখাঁ, টুকেরগাঁও, নোয়াগাঁও, মৌলভীরগাঁও, আমানতপুর, আকিলপুরসহ তিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক নারী ও শিশুরা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে আসেন।

শুক্রবরা ছাড়া বাকি ৬ দিনই রোগীদের ভিড় লেগেই থাকে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত টিনসেডের সেই আধাপাকা দুটি ভবনই দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে ১৯৮৬ সালে তৎকালীণ বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানের দেওয়া একতলা বিশিষ্ট কোয়াটার ভবনেই এখন চলছে চিকিৎসা সেবা। বর্তমানে ওই ভবনের অবস্থাও করুণ।

ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, বিশ্বনাথের লামাকাজি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, তিন উপজেলাবাসীর প্রাচীণতম একটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জরুরী ভিত্তিতে পুনঃনির্মাণসহ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া জরুরী।

দেড় বছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন জানিয়ে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেপুটিশনে থাকা উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার লাকী খাতুন বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন যে পরিমান রোগী সেবা নিতে আসেন সে পরিমানে ঔষধ সরবাহ হয় না। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বিশুদ্ধ পানিসহ আরও অনেক সমস্যাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুনঃনির্মাণ জরুরি দাবি করে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাক্ মো. আবদুর রহমান বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতোই ‘দিঘলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জনগুরুত্বপুর্ণ। হাসপাতালটি জরাজীর্ণ হলেও চিকিৎসাসেবার কোন কমতি নেই। জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.