Sylhet Today 24 PRINT

বাংলাদেশের বদ্বীপ ডাইনামিক ও পরিবর্তনশীল: ড. দীপেন

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

বঙ্গীয় বদ্বীপের অতীত ও ভবিষ্যৎ' শীর্ষক একক বক্তৃতার আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ এবং খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে একক বক্তা ছিলেন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. দীপেন ভট্টাচার্য।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাসার (ঘঅঝঅ) গডার্ড স্পেস ফ্লাইট ইনস্টিটিউটে সাবেক গবেষক। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড ক্যাম্পাসে (ইউসিআর) গামা রশ্মি জ্যোতির্বিদ হিসেবে যোগ দেন। মহাশূন্য থেকে আসা গামা রশ্মি পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে বায়ুমণ্ডলের ওপরে বেলুনবাহিত দূরবীন ওঠানোর অভিযানসমূহেও তিনি যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় রিভারসাইড কলেজে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপকও তিনি।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পৃথিবীর সমস্ত বদ্বীপের মধ্যে বাংলাদেশের বদ্বীপ সবচেয়ে ডাইনামিক, সদা পরিবর্তনশীল। এর ইতিহাস মানুষের ইতিহাস থেকে অতিপ্রাচীন, তাকে বর্ণনা করতে হবে ভূ-বিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যার স্কেলে কোটি বছরের হিসাবে। এর উত্তরাংশের মাটির অল্প নিচেই পাওয়া যাবে প্রাচীন মহাদেশীয় ভিত্তি শিলা যা সৃষ্টি হয়েছিল প্রাক-ক্যাম্বিয়ান যুগে, ৫৫ কোটি বছরেরও পূর্বে। ভারতীয় প্লেটের দীর্ঘ উত্তরমুখী যাত্রার সময় সিলেট ও রংপুর অঞ্চলে বহুদিন সমুদ্রতটের অবস্থান ছিল। তারপর সেই প্লেটের এশিয় মহাদেশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরে হিমালয়ের উত্থান শুরু হয়। হিমালয়ের ক্ষয়িত পাথরই কোটি কোটি বছর ধরে এই বদ্বীপ গড়ে তুলেছে। সেই পলি অবক্ষেপের পরিমাণ কোনো কোনো জায়গায় প্রায় ২০ কিলোমিটার পুরু। প্রতি দু-লক্ষ বছর শৈত্যসময়ে (হিমবাহের সময়) বঙ্গীয় বদ্বীপের স্থলভাগের বিস্তার হয় দক্ষিণে, আর শৈত্যসময়ের শেষে আন্ত:হিম সময়ে বদ্বীপের উচ্চতা বাড়ে। গত ১৮ হাজার বছর ধরে বর্তমানের আন্ত:হিম সময়ে কোনো ১০০ মিটারের ওপর পলি পড়েছে। অন্যদিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়ছে। মানুষ-সৃষ্ট বিভিন্ন প্রভাব ও প্রাকৃতিক পরিবর্তন চক্র মিলিয়ে আগামী কয়েক হাজার বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমান্বয়ে আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। তার ফলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে সেই চিত্রটি আলোচনায় উঠে আসে।

ভূ-প্রকৃতিগত কারণে সিলেট অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হওয়ার আশংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বাহিত পলির একটা বিরাট অংশ গভীর সমুদ্রে চলে যায়। আমাদের বদ্বীপে পলির প্রবাহ সুনিশ্চিত রাখতে হবে। এই হারিয়ে যাওয়া পলি উদ্ধারের উপায় নির্ধারণ সহ একটি দীর্ঘমেয়াদী জনসংখ্যা পুনর্বাসন পরিকল্পনায় উপকূলীয় অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্ব কমিয়ে আনতে হবে।

ড: দীপেন ভট্টাচার্য এর একক বক্তব্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপা হবিগঞ্জের সহ সভাপতি এডভোকেট মনসুর উদ্দিন ইকবাল। ড: দীপেন ভট্টাচার্য এর সম্পর্কে অবহিত করেন বাপা সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেনিপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় ড: দীপেন ভট্টাচার্যকে। পরে তিনি জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় সম্মুখস্থ নিমতলায় টেলিস্কোপের সাহায্যে ‘আকাশ দেখা’ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড: দীপেন ভট্টাচার্য।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.