Sylhet Today 24 PRINT

চিকিৎসক স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

নগরীতে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী। নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে আদালতে মামলাও করেছেন স্ত্রী খাদিজা ইয়াসমীন রিয়া (২২)।

অভিযুক্ত চিকিৎসক আব্দুল আলিম (৪৭) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি নীলফামারি জেলার সৈয়দপুর থানার লক্ষণপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের ছেলে।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার আবুল আলিম দাবি করেছেন, তিনি পুরুষ নির্যাতনের শিকার।

মামলায় রিয়া অভিযোগ করেন- প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে ওই চিকিৎসক তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টার চালান।

রিয়ার অভিযোগ- অনৈতিক কাজে ব্যবহারে ব্যর্থ হয়ে মারধর, পাগল সাজানোর চেষ্টা এবং ডিভোর্সের ভয় দেখিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায় করতে চেয়েছেন এই চিকিৎসক। কৌশলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন রিয়াকে।

রিয়ার দাবি- তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলে সেখানেও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন আব্দুল আলিম। আদালত থেকে জামিন নিয়ে স্ত্রীকে বাড়াবাড়ি না করতে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছেন তিনি।

রিয়া জানান, তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজের বিএসসি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবা দ্বিতীয় সংসার করার কারণে পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোটো রিয়ার পড়াশোনা করতে হয় বড় বোন ও বড় দুলাভাইয়ের অর্থ-সাহায্যে। তারা ঢাকায় থাকার কারণে প্রায়ই ঢাকায় যাওয়া-আসা করতেন রিয়া। সে সুবাদে পরিচয় হয় ডা. আলিমের সাথে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে আলিম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বয়সের ব্যাপক ব্যবধান হলেও সরকারি চাকুরিজীবী চিকিৎসক আলিমের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান রিয়া। ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর আলিমের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। রিয়া জানতে পারেন এর আগেও এক চিকিৎসককে বিয়ে করে দীর্ঘদিন সংসার করেছিলেন আলিম। আলিম প্রথম স্ত্রীকে কৌশলে ডিভোর্স দেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে রেখেই আলিম একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যান বলে জানান রিয়া। প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকে বিভিন্ন ভয় দেখানো হয়। এক পর্যায়ে চাকরিক্ষেত্রে পদোন্নতির অজুহাতে অন্য পুরুষের সাথে দৈহিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেয়া হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে ঘুমের মধ্যে তার শরীরে ইনজেকশন পুশ এবং মানসিক রোগের ঔষুধ খাইয়ে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে রিয়ার কাছে প্রমোশনের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন আলিম। সেটি না পেয়ে সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেটের বাসা থেকে বের করে রিয়াকে তার বোনের বাড়ি ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। পরে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন আলিম। রিয়ার সাথে রাত কাটানোর পর সকালে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করে টাকা না পেয়ে রিয়াকে ব্যাপক মারধর করে ডিভোর্সের ভয় দেখিয়ে চলে আসেন। সুস্থ হতে রিয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

পরে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিলে গত বছরের ২৪ অক্টোবর ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এ মামলা করেন রিয়া। মামলার তদন্তক্রমে এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিলেটের ঠিকানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও অজ্ঞাত কারণে পরোয়ানাটি সংশ্লিষ্ট থানায় পৌছায়নি। গ্রেফতার হননি আলিম। উল্টো প্রশাসনের উর্ধতন মহলের বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে আলিম রিয়া ও তার পরিবারকে গুম করার হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন রিয়া। এ ব্যাপারে একাধিকবার নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হন রিয়া। সিলেটের পুলিশ কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক বরাবরেও তিনি এ ব্যাপারে আবেদন পেশ করেন।

গত ২ জানুয়ারি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন পেয়ে যান আলিম। এসময় তিনি আগের তারিখের একটি তালাকানামও আদালতে পেশ করেন যা রিয়ার অগোচরেই করা হয় বলে দাবি রিয়ার।

রিয়া অভিযোগ করেন জামিন পাবার পর আলিম তাকে তুলে নেয়ার হুমকি দেন। নিরাপত্তার জন্য গত ৮ থেকে ১০ জানয়ারি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে অবস্থান নেন রিয়া। এর মধ্যে বিষয়টি শাহবাগ থানাকেও অভিহিত করা হয় বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমার জীবন, আমার স্বপ্ন সব শেষ হয়ে গেছে। স্বপ্ন নিয়ে চিকিৎসক স্বামী বিয়ে করেছিলাম। এখন তার আতংকে আমাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এখনো এক আত্মীয়র বাড়িতে গোপনে আছি। পুলিশ, প্রশাসন সব জায়গাতেই নাকি তার মানুষ আছে আমাকে ফলো করার জন্য।

এ বিষয়ে জানতে ডা. আব্দুল আলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ভাগ্যদোষে তিনি আগের স্ত্রীর সাথে সংসার চালিয়ে নিতে পারেননি। তাদের সমঝোতার মাধ্যমেই ডিভোর্স হয়েছিল। দ্বিতীয় বিয়ের সময় বিষয়টি উল্লেখ করার কিছু ছিল না, বয়সের কারণেই তারা বিষয়টি জানতেন। কিন্তু আমার দ্বিতীয় স্ত্রী তার বড় দুলাভাইয়ের সাথে পরিকল্পনা করেই টাকার জন্য আমাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর বিষয়টি আমি বুঝতে পারি। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। ১০ লাখ টাকা কাবিন হলেও তারা এখন আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করছেন। এজন্যই মামলা করেছেন।

হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি একজন বিসিএস ক্যাডার, আমার পরিচিত মানুষ থাকতেই পারে। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার সময় হয়ত দুয়েকটা কথা বলেছি। সেটা কিছুতেই হুমকি নয়। তিনি বলেন, আমি পুরুষ নির্যাতনের স্বীকার।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.