মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নেতারা। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে করা ২ টি মামলায় প্রায় দেড়শ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এতে করে গত দুই দিনে প্রকাশ্যে তেমন দেখা মিলছে না জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সিলেট আগমন উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শেরপুরে ব্যাপক শোডাউনের চেষ্টা করে মৌলভীবাজার বিএনপি। পুলিশি বাধায় শেরপুরে দাড়াতে পারেনি তারা। একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার গাড়ী বহর শেরপুর পৌঁছালে ঝটিকা মিছিল করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এতে পুলিশ ধাওয়া দিলে উত্তেজিত হয়ে পড়ে বিএনপি কর্মীরা। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০/৪৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এই মামলায় ৪জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকী আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছ পুলিশ।
৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শ্রীমঙ্গলে পুলিশ–বিএনপি সংঘর্ষে এক বিএনপি নেতা এবং শ্রীমঙ্গল থানার ওসিসহ ২ পুলিশ আহত হন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫-৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করে। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এই দুই মামলা আসামী ধরতে এবং নাশকতা এড়াতে মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতাদের বাসায় এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে আত্মগোপনে চলে গেছেন। প্রকাশ্যে তেমন দেখা যাচ্ছেনা দলটির নেতাদের। জেলা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের বাসায় ইতিমধ্যে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
৪ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে এখন পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৬ নেতাকে পুলিশ আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সরকার সব ধরনের নাগরিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ৮০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে কোন কারণ ছাড়াই মামলা করেছে পুলিশ। গত সোমবার শেরপুরে পুলিশের সাথে কোন ধরনের সামান্য ধ্বস্তাধস্তি ও হয়নি।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল আহমদ জানান, আসামী ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নাশকতা এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।