নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ জুন, ২০১৫
ছড়া-খাল উদ্ধার অভিযানের বাগড়ম্বিতা, কোটি কোটি টাকা ব্যয় সত্ত্বেও ফের নগরজুড়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। টানা বর্ষনে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সিলেট নগরীতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
বুধবার রাত থেকে টানা বর্ষনে নগরীর অর্ধশত এলাকার বাসা-বাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। অনেক সড়কেই জমে আছে হাঁটু পানি। পানি উঠে পড়েছে অনেক অফিসেও। ফলে দিনের শুরুতেই নগরবাসীকে পড়তে হয়েছে দূর্ভোগে।
নগরীর ছড়া-খাল দখল, উদ্ধারের নামে সিটি করপোরেশনের লোক দেখানো কর্মকান্ড আর অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে ভূক্তভোগীরা মনে করেন।
জানা যায়, সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট-বড় ১২টি ছড়া ও খাল। সাবেক দুই মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফল হক চৌধুরীর সময়ে ছড়া উদ্ধারে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এখনো চলছে ছড়া উদ্ধারের কাজ। প্রতিদিনই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ছড়া উদ্ধারে নিজেদের তৎপরতা আর সফলতার বিবরণ দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করেন।
এতো উদ্যোগ, ওতো কর্মযজ্ঞ সত্ত্বে জলবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না নগরবাসী। বরং ছড়া উদ্ধার আর সংস্কারের নামে জলে ফেলা হচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা।
সিলেট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা পর্যন্ত ১৪৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এছাড়া বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মাত্র তিন ঘন্টায় এই পরিমান বৃষ্টি এ মৌসুমে আর হয় নি বলে জানান সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ।
টানা বর্ষনে বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর বেশিরভাগ এলাকাতেই জল জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় সিলেট নগরীর দরগাহ মহল্লা, লন্ডনী রোড, ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড, লোহারপাড়া, হাওয়াপাড়া, তাঁতীপাড়া, সওদাগরটুলা, চারাদিঘীরপাড়, দাঁড়িয়াপাড়া, তালতলা, মির্জাজাঙ্গাল, ভাতালিয়া, বিলপাড়, কাজলশাহ, বাগবাড়ি, বড়বাজার, খাসদবির, সোনারপাড়া, রায়নগর, দর্জিপাড়া, দপ্তরিপাড়া, যতরপুর, উপশহরসহ অন্তত অর্ধশত এলাকা।
এসব এলাকার বেশিরভাগ বাসা-বাড়ির নিচতলায়ও পানি উঠে যায়। সকালে সকালে বাসা থেকে বের হয়ে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী লোকজন পড়েন বিড়ম্বনায়। রাস্তায় পানি থাকায় যানবাহন না পেয়ে অনেকেই ফিরে আসেন বাসায়। ফলে আজ নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতির সংখ্যা অন্যদিনের তুলনায় কম।
নগরীর সোনারপাড়ার বাসিন্দা শফিক আহমদ জানান, তার এলাকায় ছড়ার পানি উপচে বাসায় উঠে যায়। পানি বাসায় ঢোকে পড়ায় ঘরের অনেক আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
দাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা সুবেল চন্দ্র নাথ জানান, নগরীর ছড়া ও খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয়। তিনি জানান, শুধু ছড়া-খাল নয় অনেক স্থানে লোকজন ড্রেনও দখল করে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হতে তাকে পাওয়া যায়নি।