রিপন দে, মৌলভীবাজার | ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
মৌলভীবাজার পৌর শহর সহ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের পানি নিস্কাশনের প্রধান মাধ্যম কোদালিছড়া। প্রায় ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খাল দীর্ঘদিন থেকে খনন না হওয়ায় এবং দখল দূষণে সংকুচিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয় শহরে। অল্প বৃষ্টিতে নষ্ট হয় তিন ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষকের ফসলী জমি। তাই কোদালিছড়া খননের দাবি ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের।
জানা যায়, একযুগেরও বেশি সময় ধরে জগন্নাথপুরের খাইঞ্জার হাওরে ফলেনি কৃষকের ধান। পানির তীব্র সংকট আর বর্ষা মৌসুমে মৌলভীবাজার শহরের জলাবদ্ধতার প্রভাবের কারণে এই হাওরে জমে থাকা পানিই কৃষকের ক্ষেত নষ্ট হবার মূল কারণ। প্রতি বছর তলিয়ে যায় কৃষকের ঘামঝরানো কষ্টের ফসল। সময় বদলায়, সরকার বদলায়, জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হয় তবুও পরিবর্তন হয়নি এ অঞ্চলের কৃষকের ভাগ্য। তবে এবার বদলে যাবে এসব ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের হাজারো কৃষকের ভাগ্য।
পানি নিষ্কাশনের একমাত্র এই খালটি দীর্ঘদিন থেকে খনন না হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
মৌলভীবাজার শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত কোদালিছড়া খাল। প্রায় ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি পৌর শহরের ভেতর দিয়ে, মোস্তফাপুর, গিয়াসনগর ও নাজিরাবাদ ইউনিয়ন হয়ে হাইল হাওরে শেষ হয়েছে। এই খাল দিয়ে এই এলাকার পানি নিস্কাশন হয়ে হাওরে পরে। কিন্তু পানি নিস্কাশনের একমাত্র এই খালটি দীর্ঘদিন থেকে খনন না হওয়ায় এবং অবৈধ দখল দূষণে ভরাট হয়ে রয়েছে। যার ফলে অল্প বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও ধানি ফসলী জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগস্ত হন এই এলাকার স্থানীয় কৃষকেরা।
শহরের জলাবদ্ধতা কমাতে ও কৃষকের ফসল রক্ষার্থে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সিলেট বিভাগ ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কোদালীছড়া খালের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পুন:খনন কাজ করা হয়েছে। ৪০ ফুট প্রশস্ত ও ১০ ফুট গভীরে খাল খনন করা হয়।
এ বছর দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সিলেট বিভাগ ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কোদালীছড়ার খাল পুন:খনন কাজে মোস্তফাপুর, গিয়াসনগর ও নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার খনন ও দুই পাড়ের বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এই খননের কাজ ১৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম উদ্বোধন করেন। এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে এই খাল খননে যুক্ত হবে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
যার ফলে আগাম বন্যা থেকে রক্ষা পাবে তিন ইউনিয়নের ফসল এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। সেই সাথে এই এলাকার ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
কোদালিছড়া খাল খনন দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে গণসচেনতার জন্য বহুদিন যাবত কাজ করে আসছেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী হাসনাত কামাল। তিনি জানান, 'কোদালিছড়ায় টলটলে জল ফিরিয়ে দে' এই স্লোগানে ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় খনন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শতাধিক সংগঠন অংশ নেবে।
এ বিষয়ে পৌর শহরের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা কামরুল হাসান সহ অনেকে বলেন, কোদালিছড়া খনন না হওয়াতে অল্প বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বিপাকে পড়েন শহরের বাসিন্দারা। খালটি খনন এর ফলে শহরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে পারে।
মোস্তফাপুর গ্রামবাসী জানান, কোদালিছড়া খননের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। খালটি ভরাট থাকার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিস্কাশন না হওয়ায় ফসলী জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এখন খালটি খনন কাজ শুরু হয়েছে। সঠিকভাবে খালটির খনন কাজ শেষ হলে আশা করি আর ফসলি জমির ফসল নষ্ট হবে না।
মৌলভীবাজার পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান জানান , ২০১৭ সালে কোদালীছড়ার খালের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার কাজ হয়েছে। এ বছর আরো চার কিলোমিটারের কাজ শুরু হয়েছে খালের বাকি অংশটির কাজ জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে খনন করা হবে।