Sylhet Today 24 PRINT

বড়লেখায় ‘মাস্টারের পাখিবাড়ি’

রিপন চন্দ্র দে, মৌলভীবাজার |  ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

শীত মৌসুমে প্রতি বছর হাকালুকি হাওর এলাকায় হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দলে দলে ছুটে আসে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। শীতের তীব্রতা যত বাড়ে ততই বাড়ে অতিথি পাখিদের কোলাহল। দলবাঁধা পাখিদের কিচির মিচির ডাক শোনে মনে হয় এ যেন প্রকৃতির সুনিপুণ হাতে তৈরি মনোমুগ্ধকর কোন এক সুরেলা যন্ত্র।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর এলাকায় হাল্লা গ্রামের মনোহর আলী মাস্টারের পাখি বাড়ি। যা এলাকায় পরিচিত ‘মাস্টারের পাখিবাড়ি’ নামে।

তবে শুধু শীত মৌসুমে নয়, সারা বছর জুড়ে এ বাড়িতে দেশীয় নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। আর শীত এলে অন্য পাখিদের সাথে যোগ হয় হাজার হাজার অতিথি পাখি , সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের পাদদেশ লাদাক থেকে এরা আসে। প্রতি শীতে অতিথি পাখির কলকাকলিতে পাল্টে যায়  মনোহর আলী মাস্টারের বাড়ীর চির চেনা চেহারা।

গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,  ইতোমধ্যে বড় বড় দলে হাওরের চকিয়া, হাওরখাল পিঙলা, জলনডা, কালাপানি, বাইয়াগজুয়া, মালাম, নাগুয়া লরিবাই, কৈয়ারকোনা ও ফুটবিলেসহ বিভিন্ন প্রজাতির নানা রঙের অতিথি পাখির দেখা পাওয়া যাচ্ছে। এখানে নিশিবক, সাদাবক, লালবক, হাঁস, পানকৌড়ি, জলকুড়া, সরালি, কুদালীসহ নানা প্রজাতির পাখি আশ্রয় নিচ্ছে। এর মধ্যে অনেক বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির পাখিরও দেখা মেলে। তবে বকের সংখ্যাই বেশি।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, শীতের প্রতি বছর দক্ষিণ হাকালুকিতে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে আসে অতিথি পাখির দল, তখন হাওরের পাশাপাশি হাকালুকির হাল্লা গ্রামের মনোহর আলী মাস্টারের বাড়িটিও মুখর হয়ে ওঠে অতিথি পাখির কলকাকলিতে। হাজার হাজার পাখির আগমনে পুরো এলাকা পাখি রাজ্যে পরিণত হয়।

তারা জানান, ভোর হবার সাথে সাথে পাখিরা চলে যায় খাবারের সন্ধানে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলের শাখা উপশাখায় সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিল জলাশয় থেকে এসে আশ্রয় নেয় বাড়ির গাছ গাছালিতে। সারা দিনের খাবার শেষে ফিরে আসে মাষ্টারের পাখি বাড়িতে। বাড়ীর চারদিকে একাধিকবার ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে চলে আসে মনোহর আলীর মাষ্টারের পাখি বাড়িতে।  বাড়ির হিজল, করস ও জারুল বাগানের ডালে ডালে বসে কিচির মিচির শব্দে কম্পিত করে আশে পাশের এলাকা।

সারা হাকালুকি হাওর জুড়ে যেখানে পাখি শিকারিদের রুখতে প্রশাসনের নানা পরিকল্পনা প্রতি বছর নিতে হয় সেখানে ব্যতিক্রম মাষ্টারের পাখি বাড়ি। এখানে নেই শিকারিদের উপদ্রব।

প্রতিদিন অনেক দুর থেকে অসংখ্য পর্যটক ছুটে আসছেন মুগ্ধকর এই দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। বিশেষ করে ছুটির দিনে পাখি প্রেমীরা ভিড় করেন এখানে।

স্থানীয়রা জানালেন, মনোহর আলীর বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো বাড়ির গাছে একটিও পাখি বসে না। পাখি ওড়ার দৃশ্য এলাকার মানুষ ও পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।

মনোহর আলী মাস্টারের ছেলে আক্তার আহমদ শিপুর জানান, তাদের দাবী সরকারিভাবে পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে এলাকাটিকে ঘোষণা করে তা সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে পাখির বসবাস আমাদের বাড়িতে। পাখির আবর্জনায় বাড়ীতে দুর্গন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ঘরের টিন ।  তবুও পাথিকে ভালবেসে তারা পাখিদের তাড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে দুর্গন্ধ বিহীন পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চান।

সবুজে ঘেরা পর্যটন জেলা  মৌলভীবাজারে ছোট বড়  বিল নদ-নদীর সমন্বয়ে এশিয়ার বৃহত্তর হাওড় হাকালুকি হাওরে  শীত মৌসুমে দলে দলে প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ছুটে আসে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। তবে হাওরের অংশ ছাড়া একমাত্র মাষ্টারের বাড়ীতেই পাখিদের এমন মিলন মেলা।

শীতকালে হাকালুকি হাওরে বেড়াতে আসা ভ্রমণ পিয়াসুদের অন্য রকম আনন্দ দেয় মনোহর আলী মাস্টারের ‘পাখিবাড়ি’।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.