Sylhet Today 24 PRINT

টমেটোর কেজি ১ টাকা

হামিদুর রহমান, মাধবপুর |  ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

টমেটোর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার বাম্পার ফলনের আনন্দ বেদনায় রূপ নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরের টমেটো চাষিদের। বর্তমানে চাষিরা প্রতি কেজি টমেটো পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন ১ টাকায়।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলার মাধবপুর উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২২০ হেক্টর নির্ধারণ করলেও ফলন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হেক্টর বেশি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় কিছু কিছু মাঠে এখনো ধানের চারা লাগানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে টমেটো সংরক্ষণাগার (হিমাগার) না থাকায় ক্ষেত থেকেই চাষিরা টমেটো কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে বাম্পার ফলন হলেও টাকা কম পাচ্ছেন চাষিরা। ফলে টমেটো চাষ করে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে চাষিদের।

টমেটো চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১ মাস ধরে জমি থেকে টমেটো তোলা শুরু হয়েছে। প্রথম দুই সপ্তাহ দাম প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা করে পাওয়ায় খুশি ছিলেন চাষিরা। কিন্তু পরের সপ্তাহে ১০ টাকা, এরপর ৭ টাকায় নেমে আসে। বর্তমানে টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১ টাকা ও উন্নতমানের টমেটো সর্বোচ্চ ২ টাকায় নেমে গেছে। চাষিরা নাম মাত্র মূল্যে টমেটো বিক্রি করছেন। এতে টমেটো বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন, রোববার ক্ষেত থেকে ২ টাকা করে টমেটো বেচতাছি। ধান লাগাইতে টাকা লাগবো, তাই কম দামে বেচন ছাড়া উপায় নাই।

একই ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া জানান, টমেটো চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু ভালো দাম পাচ্ছি না। কিস্তিতে টাকা তুলে অন্যের দেড় বিঘা ধার নিয়ে টমেটো চাষ করেছি। টমেটো ভালো হয়েছিল। কিন্তু টমেটোর দাম খুবই কম। মনে হচ্ছে টমেটো বিক্রি করে কিস্তির টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। বড়ই চিন্তায় আছি।

মাধবপুর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অর্ধেন্দু দেব অসিত বলেন, চলতি বছর পর্যাপ্ত সার অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন না। যদি স্থানীয়ভাবে টমেটো সংরক্ষণাগার করা যায় অথবা চাষিদের সংরক্ষণ প্রযুক্তিটা বুঝাতে পারা যায় বা সংরক্ষণ করে কিছু দিন পরে বিক্রি করতে পারলে চাষিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাধবপুর উপজেলার ৭০ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। এখানে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সবজির চাষ করা হয় কিন্তু হিমাগারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদন হওয়া এই সবজি কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়। মৌসুমে শুধু সংরক্ষণের অভাবে প্রায় বিরাট একটি অংশ সবজি পচে নষ্ট হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে এই উপজেলার কৃষকরা উপকৃত হবেন। বর্তমান সরকার কৃষকদের স্বার্থে কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই একটি হিমাগার নির্মাণ করে সরকার এই উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন ঘটাবেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.