Sylhet Today 24 PRINT

মিয়াদ ও তানিমের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি |  ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তানিম খান ও লিডিং ইউনিভার্সিটির ছাত্রলীগ নেতা ওমর মিয়াদের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের স্বজনরা।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এ দাবি জানান তারা।

এসময় নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ হত্যা মামলার বাদী ও তার পিতা আকুল মিয়া এবং তানিমুল ইসলাম খান হত্যা মামলার বাদী তানিমের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন রাহী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

এছাড়া উক্ত সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন তানিমের বাবা আওয়ামী লীগ নেতা ইসরাঈল খান ও ভাই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মঈনুল ইসলাম খান। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকুল মিয়া ও দেলোয়ার হোসেন রাহী দু’টি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা বদলির আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেন- ‘দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ সকল আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অথচ তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহের পরও কোন সুফল মিলছে না। আসামীরা স্বাভাবিকভাবে দিনযাপন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দলীয় অনুষ্ঠান কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে তারা। যা আমাদের স্বজন হারানো পরিবারকে মর্মাহত করেছে।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- ‘এভাবে যদি একের পর এক হত্যার পর আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় তবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা অবিলম্বে মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে স্থানান্তরের আবেদন জানাচ্ছি এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করারও আবেদন জানাচ্ছি।’

মিয়াদের পিতা আকুল মিয়া বলেন- ‘গত বছরের ১৬ অক্টোবর প্রকাশ্যে আমার ছেলেকে খুন করা হয়। পরে আমি শাহপরান থানায় ১০ আসামীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরোও কয়েকজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করি। কিন্তু পুলিশ মাত্র ১ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রায় ৫ মাস হয়ে গেলেও এখনও অন্য আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা প্রভাবশালী নেতাদের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে তারা প্রতিদিনই সরব থাকছে।

তিনি বলে, গ্রেপ্তার করা তো দূরের কথা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মূল আসামীদের নাম বাদ দিয়ে মামলার চার্জশিট প্রদানের চেষ্টা করছেন। যার কারণে মূল আসামীরা রেহাই পেয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি। তাই আমি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর কিংবা নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’

তানিমের বন্ধু ও ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন রাহী বলেন- ‘গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যারাতে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে আমার বন্ধু তানিমুল ইসলাম খানকে। তানিমকে হারিয়ে ভয়ে তার পিতাসহ পরিবারের স্বজনরা মামলা পর্যন্ত করতে আগ্রহী হননি। পরে আমি মামলা দায়ের করেছি।
মামলায় মাত্র ৪ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। অন্যরা এখনও থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মিয়াদের খুনিদের মতো তারাও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিনই তারা সরব রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছেনা। উল্টো আসামীদের রক্ষা করার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

আকুল মিয়া ও রাহী বলেন- ‘আমরা মিয়াদ ও তানিমের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি করছি। তারা দু’জন টিলাগড়ে আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতির বলি হয়েছেন। নোংরা রাজনীতির বলি যাতে আর কোন মেধাবী তরুণ না হন সে লক্ষ্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি করছি। আসামীরা বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। যার কারণে আমরা দু’টি পরিবারই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা আমাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.