সদরুল আমিন, ছাতক | ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া সময়সীমা পার হয়ে যাবে ক'দিন পরেই, কিন্তু এখনও হাওরগুলোর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা স্থানীয় কৃষকদের।
পাউবোর বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, গত ১৫ ডিসেম্বর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। তবে ছাতক উপজেলার ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) মধ্যে এখনও চারটির কাজ শুরু করেনি। এ অবস্থায় অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে হাওরের বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাওরপাড়ের শত শত কৃষক পরিবার।
উপজেলার সবচেয়ে বড় নাইন্দার হাওর গত বৃহস্পতিবার নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এখানে ৫নং পিআইসি ছাড়া এখনও বাকি পিআইসির কাজ শুরু হয়নি। নোয়ারাই ইউপির নাইন্দার হাওরে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে ৫টি, জাউয়াবাজার ও চরমহল্লা ইউনিয়নের ডেকার হাওরে আরও দুটিসহ ৭টি পিআইসি গঠন করা হয়। এ ছাড়া সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলীর হাওরের বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য গঠন করা হয় আরও দুটি পিআইসি।
গত বছরের ২৮ নভেম্বর উপজেলা পিআইসি মনিটরিং কমিটি কর্তৃক প্রেরিত ৩১টি স্কিমের মধ্যে গত ৭ জানুয়ারি জেলা কমিটির সভায় অনুমোদিত হয় ৭টি কমিটি। উপজেলা কমিটি অনুমোদিত ৩১টি স্কিমের মধ্যে ২৪টি বাতিল ও ৭টি স্কিম বোর্ডের আলোকে রাখা হয়। নাইন্দার হাওরের ৫৩.৮৮৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধের মধ্যে ১৫.৭৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য এডিপি থেকে ৫১.৯৪ লাখ এবং এনডিআর থেকে ২০ লাখ টাকা, ডেকার হাওরের জন্য এডিপি থেকে ১.৫৯ লাখ টাকা এনডিআর থেকে ২৪.৮৫ লাখ টাকা এবং চাউলীর হাওরের জন্য এনডিআর থেকে ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চাউলীর হাওরে এনডিআর থেকে বরাদ্দকৃত ৫৭ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র সাড়ে ৭ লাখ টাকা স্থানীয় পিআইসি কমিটিকে বরাদ্দ দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছাতক উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এগুলোর মধ্যে সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলীর হাওরের চারটি পয়েন্টের বাঁধ পিআইসি কমিটি এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে, তবে এই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
ইউএনও মো. নাসির উল্লাহ খান বলেন, হাওরের ফসলরক্ষার মোট ৯টি মধ্যে ৪টির কাজ শুরু করা যায়নি। বাঁধের কাজের বিষয়ে সর্বদাই তদারকি করা হচ্ছে। এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।
সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূইয়া চাউলীর হাওরের বরাদ্দের ব্যাপারে বলেন, ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দের জন্য যে স্কিম প্রয়োজন সেটা উপজেলা পিআইসি মনিটরিং কমিটি জেলা কমিটিতে পেশ করেনি। তাই পুরো টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে নিয়ে শিগগিরই বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে নতুন করে প্রয়োজনীয় স্কিম তৈরি করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।