বিশ্বনাথ প্রতিনিধি | ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
বিশ্বনাথের পিএমসি একাডেমী এন্ড হাইস্কুলের শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় আ’লীগ নেতাসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। এ হামলায় এক পক্ষে রয়েছেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি জহরুল হোসেন জহির আর অন্য পক্ষে রয়েছেন স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি কাইয়ুম মিয়া।
বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বুরকি বাজারে কাইয়ুম মিয়ার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসময় মুন্সিরগাঁওয়ের বাসিন্দা ও বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক জহরুল ইসলাম জহির, কাতার প্রবাসী আব্দুল কাদির ও ইশবপুরের দিলোয়ার হোসেন এবং মধ্যস্থতাকারী আব্দুন নুর মেম্বার আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় দিলোয়ারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত সোয়া ৭টার দিকে কাইয়ুম মিয়া পক্ষের বুরকি গ্রামের বাবুল মিয়া হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের বুরকি বাজারে এ হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হাইস্কুলে বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে মুন্সিরগাঁওয়ের নজমুল হোসেন কিরণ মিয়াকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি বুরকি গ্রামের কাইয়ুম মিয়াও এতে সম্মতি জানান এবং পরবর্তী আরেকটি তারিখ নির্ধারণ করে কমিটি ঘেষাণার প্রস্তাব করেন।
ওই বৈঠকের সিদ্দন্তনুযায়ী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুনরায় বৈঠক বসলে কাইয়ুম মিয়া আর উপস্থিত হননি। ফলে স্কুলর দাতা সদস্য তৈমুছ আলীর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে এলাকাবাসীর সমন্বয়ে নজমুল হোসেন কিরণ মিয়াকে সভাপতি করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু, কাইয়ুম মিয়া পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি বুরকি বাজারে বসে পাল্টা আরেকটি কমিটি করে প্রধান শিক্ষক সাধন চন্দ্র তালুকদারের কাছে জমা দেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দেয়া কমিটিকে গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করে দেন। প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির এহেনও কর্মকাণ্ডে ২১ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসী স্থানীয় আনন্দ বাজারে ‘স্কুল রক্ষা কমিটির ব্যানারে সভার আহবান করা হয়।
পরে এলাকার প্রবীণ মুরব্বী আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে বাজারে বৈঠক শেষে মোটরসাইকেল যোগে লামাকাজি যাবার পথে বুরকি বাজারে গেলে কাইয়ুম মিয়ার নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা করা করা হলে ৪ জন এবং রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবুল মিয়া আহত হন।