ওসমানীনগর প্রতিনিধি | ০৪ মার্চ, ২০১৮
সিলেটের ওসমানীনগরে পুলিশ কর্তৃক এক মাইক্রো শ্রমিককে আটক ও মারধরের প্রতিবাদে প্রায় আড়াই ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে মাইক্রো শ্রমিকরা।
শনিবার রাত ৮টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের গোয়ালাবাজার এলাকায় এ অবরোধের ঘটনা ঘটে। অবরোধ কালে মহাসড়কের দু’দিকে দুরপাল্লার কয়েক সহস্রাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।
মাইক্রো শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল তিনটার দিকে গোয়ালাবাজার মাইক্রো স্ট্যান্ড পাশ্ববর্তী এলাকায় জুয়ার আসরে অভিযান চালান ওসমানীনগর থানার এসআই বাদল মিয়া। এসময় লিটন নামের এক শ্রমিককে আটক করে মাইক্রোবাস শ্রমিক সমিতির অফিসে নিয়ে আসেন। অন্যান্য সঙ্গীদের নাম বলার জন্য লিটনকে মারধর শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যান্য শ্রমিকরা পুলিশকে আটকে রেখে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি ঘটনাস্থলে পৌছে লিটনকে ছেড়ে দেয়ার আশ্বস দিয়ে থানায় নিয়ে যান। ওসির আশ্বসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। পরবর্তী সময়ে জানানো হয় লিটনকে ছাড়া যাবে না। এই খবর পেয়ে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাত মহাসড়কের গোয়ালাবাজার এলাকায় গাছ ফেলে রাত ৮টা থেকে অবরোধ করে রাখে।
এসময় শ্রমিকরা মারমুখি হয়ে লাঠিসুঠা হাতে অবস্থান নিয়ে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষাভ প্রদর্শন করে লিটনের মুক্তি ও এসআই বাদলের অপসারণ দাবি করে। অবরোধ চলাকালে মহসাড়কের দুই দিকে হাজার হাজার দুরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীসহ পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টদের।
রাত দশটার দিকে স্থানীয় নেতাকর্মীর মাধ্যমে দুই ঘন্টার মধ্যে লিটনকে পুলিশ ছেড়ে দেয়ার আশ্বস দেয়ার পর সাড়ে দশটার দিকে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
গোয়ালাবাজার মাইক্রোবাস শ্রমিক উপ-কমিটির সভাপতি কাপ্তান মিয়া বলেন, পুলিশ একটি জুয়ার আসরে অভিযান চালালে খেলোয়াররা পালিয়ে যায়। কিন্তু ঘটনাস্থলের কাছে প্রসাব করতে যাওয়া শ্রমিক লিটনকে ধরে এনে বেদম প্রহার করতে শুরু করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
এঘটনায় কথা বলতে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যার সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।