Sylhet Today 24 PRINT

বিয়ানীবাজারে ছাত্র পেটানোর দায়ে শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি |  ০৮ মার্চ, ২০১৮

বিয়ানীবাজারে পিএইচজি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আবু সুফিয়ানের বেত্রাঘাত শিক্ষার্থী মাহদি হোসেনের চোখে লাগে। এতে সে আহত হলে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার অস্ত্রোপচার শেষে জানিয়েছেন চোখটি নষ্ট হয়ে গেছে। বেতের আঘাতে তার বাম চোখের কর্নিয়া জখম হয়েছিলো। এ ঘটনায় সমায়িকভাবে শিক্ষক আবু সুফিয়ানকে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থী মাহদি হোসেনকে স্বজনরা সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ঘটনার দিন (মঙ্গলবার) বিকালে ভর্তি করেন। এদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করালেও তার চোখের অস্ত্রোপচার করা হয় বুধবার সকালে। হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শান্ত অস্ত্রোপচার শেষে বাম চোখটি ভাল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন।

শ্রীধরা গ্রামের জাবেদ আহমদ শিক্ষার্থী মাহদি হোসেনের মা রোমেনা বেগমের বরাত দিয়ে বলেন, মাহদির বাম চোখ নষ্ট হয় গেছে। এ চোখ আর ভাল হবে না বলে জানিয়েছেন ডাক্তার।

এদিকে বুধবার (৭ মার্চ) পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাসিব জীবনসহ শিক্ষকরা তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় তার পরিবারের স্বজনদের সাথে কথা বলেন এবং ধৈর্য ধরার আহবান জানান।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীর চিকিৎসা খরচ বহন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছি।

তিনি বলেন, উপজেলার সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে কোন শিক্ষক বেত নিয়ে শ্রেণি কক্ষে না যান। আগামী সভাও এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এর ব্যস্তয় ঘটলে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষার্থী মাহদি তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা আতিক হোসেন শ্রীধরা বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। পারিবারিক অবস্থা নির্ভর করে আতিক হোসেনের ব্যবসার উপর। তার মধ্যে ছেলের অনাকাঙ্কিত এ ঘটনায় এ পরিবারে অন্ধকার নেমে এসেছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.