Sylhet Today 24 PRINT

মালনীছড়া চা বাগানে টিলা কাটা: পরিদর্শনে পরিবেশ অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১১ মার্চ, ২০১৮

বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলীর মালিকানাধীন মালনীছড়া চা বাগানে টিলা কাটার ঘটনা পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন গণামধ্যমে মালনীছড়া চা বাগানে টিলা কাটার সংবাদের প্রকাশের প্রেক্ষিতে সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থল পদির্শন করে।
 
এসময় অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো আলতাফ হোসেন জানান, এভাবে পাহাড় টিলা কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এখানে টিলা কাটার ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে আরো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনে পাহাড়-টিলা কাটতে হলে আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। আর চা বাগান ইজারার আইনে- বাগানের ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে হলে ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া সিলেটে পাহাড় টিলা কাটার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। তবে এ সব কিছু উপেক্ষা করে মালনীছড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে টিলা কাটার অভিযোগ ওঠে।

মালনীছড়া চা বাগান বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা দেশের প্রথম চা বাগান। ১৮৫৪ সালে এ বাগানে উৎপাদন শুরু হয়। স্বাধীনতার পর সরকারের কাছ থেকে বাগানটি ইজারা নেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী রাগীব আলী। যিনি সিলেটের আরেক চা বাগান তারাপুর চা বাগান প্রতারণা ও জালিয়াতি করে দখলের দুটি মামলায় নিন্ম আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন। দুটি মামলায়ই উচ্চ আদালতে আপীল করে বর্তমানে জামিনে আছেন রাগীব আলী।

সিলেট নগরের পাশ্ববর্তী বিমানবন্দর সড়কের পাশে অবস্থান মালনী ছড়া চা বাগানের। শনিবার সকালে ওই বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের ভেতরে ৫০/৬০ ফুট উঁচু একটি টিলা কাটছেন কয়েকজন শ্রমিক। টিলার বেশকিছু অংশ কেটে ইতোমধ্যে ফেলা হয়েছে। টিলা কাটার মাটি বাগানেরই টরাক্টরযোগে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, কেবল এই টিলা ছাড়াও চা বাগানের ভেতরের আরো কয়েকটি টিলা বিভিন্ন সময় কাটা হয়।

মালনীছড়া চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক আজম আলী বলেন,  যে টিলাটি কাটা হচ্ছে সেটিতে চা চাষ হয় না। এটি উৎপাদনের কোনো কাজে লাগছে না। তাছাড়া চা বাগানের জন্য বাইরে থেকেও মাটি আনা সম্ভব নয়। তাই মাটির প্রয়োজন হলে আমরা ভেতরের টিলা থেকে মাটি নিয়ে থাকি। এবার সড়ক সংস্কারের জন্য টিলা থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য কারো অনুমতি নেওয়া হয়নি।


চা বাগানের ইজারা প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিস্ট জেলা প্রশাসক। এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান রোববার বলেন, বাগানে টিলা কাটা হচ্ছে বলে শুনেছি। যে কোনো ভূমি ইজারা প্রদানের সময় শর্ত দেওয়া হয় ভ’মির শ্রেণীর পরিবর্তন করতে হলে আগে ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ টিলা কাটার বিষয়টি আমাদের জানায়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.