সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১২ মার্চ, ২০১৮
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদের উপ নির্বাচনে তিন প্রার্থীই ব্যবসায়ী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাদের বখত ও বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী সুমন স্বশিক্ষিত। অন্যজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এল.এল.বি।
তবে আয়ের দিক থেকে এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী। তবে তিন মেয়র প্রার্থীর কারোর বিরুদ্ধেই ফৌজদারী বা অন্য কোনো মামলা-মোকদ্দমা নেই। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাদের বখত হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার কলামে নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। নাদের বখতের বছরে আয় উল্লেখ করেছেন, ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদ আছে ৬ লাখ ৩২হাজার টাকার। এর মধ্যে নগদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংকে ২ হাজার টাকা। ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মিলিয়ে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ উল্লেখ করা হয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে কৃষি জমি ১ দশমিক ২৮ একর এবং যৌথ মালিকানায় একটি আধাপাকা দালান রয়েছে। তবে তাঁর কোনো ঋণ নেই।
বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরীও হলফ নামায় নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। বছরে তাঁর আয় ৬ লাখ ৫ হাজার ৮৩৩ টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫১৬ টাকা। এর মধ্যে নগদ আছে ৩ লাখ টাকা, ব্যাংকে ৩৭ হাজার ৫১৬ টাকা, ইলেক্ট্রনিক সমাগ্রি, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মিলিয়ে আরও ৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর সব স্থাবর সম্পদ যৌথ মালিকানায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে কৃষি জমি ২৪ একর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, বাড়ি আধাপাকা দালান, শহরের হাসননগর এবং সার্কিট হাউজের পাশে দুতলা বাণিজিক ভবন (নির্মাণাধীন) রয়েছে। ব্যাংকে তাঁর ঋণ আছে ৯৫ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীনের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে কৃষি থেকে ৭০ হাজার এবং ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদ আছে ৩৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৪ টাকার। এর মধ্যে নগদ হাতে আছে ৯৯ হাজার ৩৭৪টাকা।
ব্যাংকে ২৪ লাখ টাকা। গাড়ি, ইলেক্ট্রনিক সমাগ্রি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মিলিয়ে আরও ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমি ৮১ হাজার টাকার, অকৃষি ১৪ লাখ টাকার, বাড়ি ৫০ লাখ টাকার। ব্যাংকে তাঁর ঋণ আছে ৯৯ লাখ টাকা।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. আয়ূব বখত জগলুল গত ১ ফেব্রæয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ আগামি ২৯ মার্চ। সুনামগঞ্জ পৌরসভায় এবার মোট ভোটার ৪২ হাজার ৩২২জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১ হাজার ১৪৯, নারী ২১ হাজার ১৭৩ জন।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নাদের বখত সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত মেয়র মো. আয়ূব বখত জগলুলের ছোট ভাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী গণিউল সালাদীন ও বিএনপির প্রার্থী সাজাউর রাজা চৌধুরী দুজনই মরমি কবি হাছন রাজার প্রপৌত্র। তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোট হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন আয়ূব বখত জগলুল। তিনি পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন পেয়েছিলেন ১০ হাজার ৪৮৬ ভোট। তৃতীয়স্থানে ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মো. শেরগুল আহমেদ। তিনি পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪১৪ ভোট।
পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মোতালেব বলেন,‘আমরা তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সব প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কারোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় নি।