সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ মার্চ, ২০১৮
শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনুপাত প্রথা বিলুপ্তি, পূর্ণাঙ্গ পেনশন চালু, নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করা, ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে জিডিপি’র ৬ শতাংশ ও জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ দ্রুত বাস্তবায়নসহ ১১টি দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ১০টি সংগঠনের শিক্ষক-কর্মচারীর যৌথ মোর্চা ‘শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি, সিলেট’ কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষক-কর্মচারী সমাবেশ আয়োজন করে।
সোমবার (১২ মার্চ) দুপুর ২টায় সিলেট শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সিলেট শহিদ মিনারে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি সিলেটের আহবায়ক ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সচিব মো. আব্দুল মালিক রাজু।
এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগর সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি সিলেটের যুগ্ম-আহবায়ক উপাধ্যক্ষ সুবল চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক সালা উদ্দিন বেলাল, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. এলাইছ মিয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম সিলেট মহানগর সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. বাহার উদ্দিন আকন্দ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা সভাপতি মামুন আহমদ। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলার সহসভাপতি অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন, অধ্যাপক কমর উদ্দিন, অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, শিক্ষক নেতা জনাব অধ্যক্ষ আব্দুল মালিক, কুতুব উদ্দিন, রমজান আলী, আব্দুল মান্নান, গোলাম মোস্তফা কামাল, বেলাল আহমদ, অধ্যাপক ফারহানা ফেরদৌসী হক, লুৎফুর রহমান, মাওলানা হারুনুর রশীদ, মহিউদ্দিন হায়দার,গোলাম মোস্তফা, বিকাশ কুমার দেব, মো.রফিকুল আলম, জনাব জারউল্লাহ, মনিরুজ্জামান, শিহাব উদ্দিন, অরবিন্দু বিশ্বাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতি শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর ন্যায্য দাবির প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি আপনি এবং আপনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন, আইসিটি শিক্ষা প্রচলন ও ৭০০০ আইসিটি শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করেছে। ২০১০ সালে ১৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ, প্রায় ২৭০০০ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ হয়েছে। আপনার সরকারই বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীকে জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্তকরণ, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিটি উপজেলায় একটি স্কুল ও একটি কলেজ সরকারিকরণসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পদ্মাসেতু নির্মাণ, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণকরণ, সন্ত্রাস দমন ও দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং সাথে সাথে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মাধ্যমে শিক্ষকদের যৌক্তিক এ সকল দাবিও বাস্তবায়িত হবে।
মহান স্বাধীনতার মাস মার্চে শহীদ মিনারের পবিত্র বেদিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা করেন জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলা গড়তে শিক্ষক সমাজের মেধা ও যোগ্যতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে তাদের মর্যাদার আসনে আসীন করে, সকল বৈষম্য দূর করে শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালনের যথাযথ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করবেন।
‘শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি, সিলেট‘র আহবায়ক অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর ন্যায্য দাবি আদায়ে অবিরাম ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ও ১৪ মার্চ ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের মহাসমাবেশে দলে দলে উপস্থিত হওয়ার আহবান জানান।