সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৬ মার্চ, ২০১৮
অবিরাম ছুটে চলাই নদীর ধর্ম। ছুটে চলার পথে সে বয়ে আনে পলি, মাটিকে করে উর্বর। প্রকৃতি ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে নদী। আবহমান কাল থেকেই নদী মানুষের বন্ধু হিসেবেই কাজ করছে। কিন্তু দখল, দূষণ আর অপব্যবহারের কারণে মানুষের চিরসখা সে নদীকেই আমরা মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিচ্ছি। এখনই সচেতন না হলে নদীগুলো মরে যাবে।
সারি নদী বাঁচাও আন্দোলন ও সুরমা রিভার ওয়াটার কিপারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ’নদীর জন্য কাঁদে প্রাণ’ শীর্ষক এক জাগরণমুলক গণজমায়েতে বক্তারা একথা বলেন।
আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস’১৮ উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৪ টায় সিলেটের জৈন্তাপুরের দামড়িস্থ ক্ষ্যাপা নদীর তীরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সারি নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হাই আল-হাদীর সঞ্চালনায় ও মাহবুবুল উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। প্রধান বক্তা হিসেবে নদীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার উপর বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম।
জমায়েতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, চারিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত উল্ল্যাহ, এডভোকেট আলতাফ হোসেন, সাংবাদিক সমির মাহমুদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শাহেদ আহমদ, যুবলীগ আহবায়ক কুতুব উদ্দিন, যুবনেতা সাইফুল আলম, ইউপি সদস্য আব্দুর রকিব, মুদচ্ছির আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বলেন, জৈন্তাপুরের হাওর-বাওর, বিল-ঝিলের প্রাণভোমরা হচ্ছে এখানকার নদী-নালা। সেগুলোর জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ পুরোটাই নদীর উপর নির্ভরশীল। নদী মরে গেলে সকল হাওর-বাওর-বিল-ঝিলেরও অপমৃত্যু ঘটবে। তাই নদীকে বাঁচানো সবার নৈতিক দায়িত্ব।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে আব্দুল করিম কিম বলেন, নদীর গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যে স্বীকৃত পেয়েছে। বর্তমান সরকারও ইতিমধ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠন করেছেন। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের জাগরণ ছাড়া নদী রক্ষা কিছুতেই সম্ভব নয়।
বক্তারা বলেন, ক্ষ্যাপা একটি ঐতিহ্যবাহী নদী। সে নদীর তীর কেটে থেকে অবৈধভাবে ইটভাটার জন্য মাটি কাটা হচ্ছে। নদীর অনেক অংশে চর জেগেছে। তাই পরিবেশ বিধ্বংসী সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য তারা প্রশাসনসহ সবার প্রতি আহবান জানান। এ নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য নদীতে ড্রেজিংয়ের জন্য গণজমায়েতে বক্তারা দাবি জানান।
জমায়েতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দেলোয়ার হোসেন, বেলাল আহমেদ, শাহজাহান কবির খান, আমিন আহমেদ, ইলিয়াস আকরাম, সেলিম আহমদ, মামুনুর রশিদ, ইমরান, আলমগীর, জসীম, কাওছার, রায়হান, জুবায়ের, শরীফ, ফয়ছল, কয়ছর, রাজ্জাক, রাসেল মাহফুজ, মখলিস, আরিফ প্রমূখ।