নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ মার্চ, ২০১৮
মাতৃভাষা কারো করুণা নয়, এটা মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার। প্রতিটি মাতৃভাষা এসেছে মায়ের কাছ থেকে। তাই কোন জাতিগোষ্ঠীকেই মায়ের, মাতৃভাষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবেনা। এই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা হলেই আন্দোলন দানা বাঁধে। আমরা আন্দোলন করে, আত্মাহুতি দিয়ে মাতৃভাষা ফিরে পেয়েছি। এখন বলতে পারি- মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা।
শুক্রবার (১৬ মার্চ) সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া) ভাষা শহীদ সুদেষ্ণা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মণিপুরী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে এ কথা গুলো বলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মহীয়সী নারী সুষমা দাস।
এসময় তিনি আরো বলেন, বাংলা ভাষার জন্য সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরো অনেকে প্রাণ দিতে হয়েছে। মায়ের ভাষার উপর যখনই বাধা-নিষেধ আসে তখন মায়েরাও পিছিয়ে থাকেন না। সারা পৃথিবীতে মায়ের ভাষার জন্য প্রাণ দেয়া প্রথম নারী কমলা ভট্টাচার্য তার পরেই শহীদ সুদেষ্ণা সিনহা। আজ সারা পৃথিবীর মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া) জাতি শ্রদ্ধার সাথে শহীদ সুদেষ্ণা সিনহাকে স্মরণ করছে।
আলোচনা সভা শুরুর আগে ভাষা শহীদ সুদেষ্ণা স্মরণে সিলেট নগরীতে শোক র্যালী ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ সুদেষ্ণা সিনহার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
বাংলাদেশ মণিপুরী ছাত্র পরিষদের সভাপতি শুভ কুমার সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনায় ছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার মুখপত্র ইথাক’র সম্পাদক সংগ্রাম সিংহ, বাংলাদেশ মণিপুরী ছাত্র পরিষদের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বীথি সিনহা মিষ্টি।
আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সচেতন নাগরিক কমিটি সনাক ও জেলা প্রেসক্লাবর সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, সুশাসনের জন্য নাগরিক সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ডক্টরস এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. পরেশ চন্দ্র সিংহ, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নির্মল কুমার সিংহ, মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ কুমার সিংহ, এসোসিয়েশন অব ইনডিজিনাস স্টুডেন্টস সাস্ট’র সভাপতি পরেশ চাকমা, বামছাপ’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুশান্ত সিংহ, বামছাপ সিলেট মহানগর শাখার সহ-সভাপতি রুমা সিনহা, মণিপুরী ব্লাড ব্যাংকের প্রতিনিধি সৌখিন সিংহ।
সভায় বক্তারা বলেন, ভাষা যে কোনো জাতির অন্যতম আবেগের একটা জায়গা। পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার জন্য বাংলা ভাষার পরেই প্রাণ দিয়েছে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী জাতি। সভায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ সরকারের উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানানো হয়।
শোক র্যালীতে অংশ নেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্ণালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আশরাফুল কবির ছাড়াও মণিপুরী সমাজের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গোটা পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রথম নারী কমলা ভট্টাচার্য শহীদ হন ১৯৬১ সালের ১৯ মে। বাংলাভাষার আন্দোলনে আসামের শিলচড়ে তিনি শহীদ হন। এরপর ভাষার জন্য পৃথিবীতে দ্বিতীয় নারী হিসাবে শহীদ হন সুদেষ্ণা সিংহ। ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া) ভাষার দাবিতে ভারতের আসামে ৫০১ ঘণ্টার রেল অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে সত্যাগ্রহীদের উপর পুলিশ ব্রাশফায়ার করলে সুদেষ্ণা সিংহ শহীদ হন। এছাড়াও আহত হন সহস্রাধিক সত্যাগ্রহী। এরপর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মণিপুরী (বিষ্ণুপ্রিয়া) জাতিগোষ্ঠী দিনটিকে শহীদ সুদেষ্ণা ও ভাষা শহীদ দিবস হিসাবে পালন করে আসছেন।