সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৬ জুন, ২০১৫
পাওনা পরিশোধের দাবিতে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করেন মেট্রোসিটির গ্রাহকরা
গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে আরো সময় চেয়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন জানিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্য সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
১২ মে উচ্চ আদালতের দেয়া এক নির্দেশনা অনুসারে ১৪ জুন বিএসইসিতে এ আবেদন জানিয়েছে সিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে বিএসইসি ৩০ জুনের মধ্যে গ্রাহকদের সব পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল সিলেট মেট্রোসিটিকে।
সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বর্তমান পরিচালক সৈয়দ হাছিন আহমেদ বিএসইসিতে করা আবেদনে জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিগত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম আলী গং ব্যক্তিবর্গ সিএসই ও সিডিবিএলের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানটির পুঁজি ও গ্রাহকের শেয়ার আত্মসাত্ করে। পরবর্তীতে বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও পর্ষদ ২০১৪ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত গ্রাহকদের পাওনা শেয়ার ফেরত দেয়ার লক্ষ্যে ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করে।
সিএসইতে অভিযোগ করা ২ হাজার ২৮১ জন গ্রাহকের মধ্যে ৭৫৯ জনকে সেখান থেকে স্টক অনুযায়ী সম্পূর্ণ শেয়ার সমন্বয় করে দেয়া হয়েছে এবং ১ হাজার ৫২২ জন গ্রাহককে আংশিক শেয়ার সমন্বয় করে দেয়া হয়েছে। এর বাইরে সিএসইতে অভিযোগ করেনি, এমন ৩ হাজার ৭৭৮ গ্রাহকের মধ্যে ৬৩০ জনকে তাদের স্টক অনুযায়ী সম্পূর্ণ শেয়ার ও ৩ হাজার ১৪৮ জন গ্রাহককে আংশিক শেয়ার সমন্বয় করে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া গ্রাহকদের নগদ ৪২ লাখ ১১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় শেয়ার ও নগদ পাওনা সমন্বয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান নেতৃত্ব। তবে কোন গ্রাহকের কতটি শেয়ার ও নগদ অর্থ পাওনা রয়েছে, তার একটি নিরীক্ষিত প্রতিবেদন প্রদানের জন্য সিএসইকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তা না পাওয়ায় শেয়ার সমন্বয় ও অর্থ পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে সিলেট মেট্রোসিটি। এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি ও পাওনা পরিশোধে উচ্চ আদালতের আদেশ বিবেচনায় নিয়ে পাওনা পরিশোধে আরো ছয় মাস সময় চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে বেঁধে দেয়া সময়ে গ্রাহকদের পাওনা সিকিউরিটিজ ও অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার পর গত ২৫ মার্চ নতুন করে সময় বেঁধে দেয় বিএসইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তা পরিশোধের কথা সিলেট মেট্রোর। গ্রাহকদের পাওনা নিষ্পত্তির বিষয়টি সমন্বয় ও তদারকির জন্য সিএসই ও ডিপোজিটরি সেবাদাতা সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নির্দেশ দেয়া হয়।
জানা গেছে, সিএসইর ট্রেকহোল্ডার মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ছয় হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। কোম্পানিটির আগের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। বিএসইসির বিশেষ নিরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন দুর্নীতিও ধরা পড়ে।
এছাড়া একপর্যায়ে ব্রোকারেজ হাউজটির নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ১ লাখ টাকার নিচে নেমে আসে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিধিমালা ১৯৮৭-এর ৩-(২) অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউজের নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ১ লাখ টাকার কম হলে স্টক এক্সচেঞ্জে তাদের সদস্য পদের সনদ স্থগিত হয়ে যাবে। পরবর্তীতে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ১ লাখ টাকার উপরে উঠে গেলে সে সনদ কার্যকর হবে। নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ১ লাখ টাকার কম থাকায় গত বছরের ৩ এপ্রিল থেকে সিএসই কর্তৃপক্ষ মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজের সব লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধান কার্যালয়সহ মোট সাতটি শাখায় গ্রাহকদের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গত বছরের মে মাসে সম্পদ-দায়ের হিসাব বিবরণী সিএসইতে দাখিল করে সিলেট মেট্রো, যেখানে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স প্রায় কোটি টাকায় উন্নীত হয়। তবে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্সের শর্তপূরণ হলেও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ না করায় লেনদেন কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ বহাল রাখে সিএসই।
পরবর্তীতে ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) স্থগিতের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানায় সিলেট মেট্রোসিটি। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম চালু করার পক্ষে আদেশ দেন হাইকোর্ট। পরবর্তীতে চেম্বার আদালতে এ আদেশ স্থগিত হলেও গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। ফলে শেয়ার লেনদেন চালু করার ক্ষেত্রে আইনগত সব বাধা দূর হয় ব্রোকাজের হাউজটির। বণিক বার্তা