নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জুন, ২০১৫
দিনভর দূর্ভোগের পর সন্ধ্যায় সিলেটের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশী হয়রানি ও অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট পালন করে পরিবহন শ্রমিকদের তিনটি সংগঠন। দিনভর চলা ধর্মঘটে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।
জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ৬ টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়। ধর্মঘটে কারণে দিনভর সিলেট থেকে কোনো দুরপাল্লার বাস ছেড়ে যায় নি। বন্ধ ছিলো ট্রাক ও ট্যাংক লরি চলাচলও।
ধর্মঘট আহ্বানকারী শ্রমিক সংগঠনগুলো সূত্রে জানা যায়, রিকুইজিশন ও কাগজপত্র পরীক্ষার নামে প্রয়াশই পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয় বাস, ট্রাক ও ট্যাংক লরি চালকদের। বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েও এ হয়রানি থেকে পরিত্রাণ মিলছে না। এছাড়া সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লামকাজিতে এ আর খান সেতুর টোল হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিয়েছে কতর্ৃৃপক্ষ। এই পুলিশী হয়রানি বন্ধ ও অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবিতে ধর্মঘট ডাকেন তারা।
এদিকে, ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয় সিলেট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে গমনেচ্ছু যাত্রীদের। অনেকেই বাস স্ট্যান্ডে এসে দিনভর অপেক্ষা করে বাস না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে দেখা যায়। ধর্মঘটের কারণে অন্যদিনের চাইলে রেল স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিলো অধিক। ধর্মঘটে দিনভর বন্ধ ছিলো সব ধরনের পণ্য পরিবহনও।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের আহ্বানে বৈঠকে বসে ধর্মঘট আহ্বানকারী শ্রমিক সংগঠনগুলো। সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের দাবিগুলো শুনেছেন এবং ঈদের পর এগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আহ্বানে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, দু’টি দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট ডেকেছিলেন। আমাদের আহ্বানে তারা বিকেলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।