নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ মার্চ, ২০১৮
সিলেটের গোলাপগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ৫ জন নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। থামছে না মৃত স্বজনদের আহাজারি। কান্নায় স্তব্ধ লক্ষ্মনাবন্দের আকাশ-বাতাস। সেই কান্না যেন পুরো লক্ষ্মনাবন্দকে গ্রাস করেছে।
আহাজারি করতে করতে নিহত কিশোর ইয়া উদ্দিনের বাবা শাহাব উদ্দিন বলেন, রাতে ঘুমানোর আগের ছেলে ফোনে আমাকে জানিয়েছিল আজ সকালে বেতন পাবে সে। সকালে ছেলের কাছ থেকে আমার বেতনের টাকা নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে আমার ঘুম ভাঙে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে।
এদিকে প্রতিদিনের মতো ফেরি করে আচার বিক্রি করা বাবলু মিয়ার স্ত্রী তাহমিনা বেগম, শিশু সন্তান তাহসিন আহমদ সহ বিক্রয় সহযোগী দুই কিশোর সেবুল ও ইয়া উদ্দিনকে নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন কলোনির এই ঘরে।
আরো পড়ুন : গোলাপগঞ্জে বজ্রপাতে গ্যাস রাইজার থেকে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু
হঠাৎ অনাকাক্ষিত ভাবে রাত তিনটার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় বজ্রপাতে ঘরের বাইরে থাকা গ্যাস লাইনের রাইজারে বিস্ফোরণ ঘটে। এত সাথে সাথে আগুন ধরে যায় বাবুল মিয়ার ঘরে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘরের ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যান বাবলু মিয়ার স্ত্রী- সন্তান সহ ৫ জন।
আরো পড়ুন : গোলাপগঞ্জে বজ্রপাতে গ্যাস রাইজার থেকে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু
গভীর রাতে আগুন লাগার খবর পায় স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশ ও দমকলবাহিনীকে জানালে তাদের চেষ্টায় জীবিত উদ্ধার করা যায় শুধু বাবলু মিয়াকে। পরে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বজ্রপাতের কারণে গ্যাস রাইজারে আগুন ধরে ঘুমন্ত অবস্থায় ২ শিশু ১ কিশোর ও ২ নারীসহ ৫ জন মারা যান এতে মারা গেছে দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভে থাকা আরো দুই প্রাণ। শনিবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মনাবন্দের (টিল্লা বাড়ি) লয়লু মিয়ার কলোনিতে এ ঘটনাটি ঘটে।
অগ্নিকান্ডে গুরুতর আহত হন গৃহকর্তা বাবলু মিয়া। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক জানান, সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।