নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ মার্চ, ২০১৮
জনপ্রিয় লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার মামলায় ফয়জুরের বন্ধু সোহাগ মিয়াকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ মার্চ) দুপুরে সোহাগ মিয়ার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালত।
এর আগে রোববার ভোররাতে নগরীর কালীবাড়ি আবাসিক এলাকা থেকে সোহাগ মিয়েকে গ্রেপ্তার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। সোহাগ হামলাকারী ফয়জুরের বন্ধু। আদালতে ফয়জুরের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব।
পরে দুপুরে তাকে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান। পরে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য ভূষণ চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ফয়জুর ছুরি নিয়ে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালান। হামলার পরপরই ফয়জুর নামে ওই তরুণকে ধরে ফেলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পরে র্যাব তাকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে।
পরে বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) আদালতে হাজির করে ফয়জুরের ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুর রহমান। আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার ১০ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে গত রোববার (১১ মার্চ) মামলার তদন্তের স্বার্থে হামলাকারী ফয়জুর হাসানের বাবা মাওলানা আতিকুর রহমানকে ৫ দিনের, মা মিনারা বেগমকে ২ দিনের ও মামা ফজলুর রহমানকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
পরে হামলাকারী ফয়জুর রহমানের ভাই এনামুলকেও গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের একটি দল। এসময় তার কাছে থাকা ফয়জুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ট্যাব উদ্ধার করে পুলিশের বিশেষ এ ইউনিট।
পরে এনামুলকে সিলেটের মহানগর হাকিম-৩ আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায় বলে রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ফয়জুর।