দেবকল্যাণ ধর বাপন | ২৬ মার্চ, ২০১৮
স্বেচ্ছায় রক্তদাতা মাহিদ আল সালামের মৃত্যু হয়েছে ‘অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে’। রোববার রাতে সিলেট নগরীর কদমতলি এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ ছাত্র। তিনি জড়িত ছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে, জড়িত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে; জড়িত ছিলেন ক্যাম্পাস ভিত্তিক অনলাইন নিউজপোর্টাল সাস্টনিউজ টোয়েন্টিফোরের সঙ্গেও।
গত শুক্রবার (২৩ মার্চ) নিজের জন্মদিনে ফেসবুকে এক পোস্টে মাহিদ লিখেন, আজকে কারো ও+ রক্ত লাগলে আওয়াজ দিবেন প্লিজ। বান্দা হাজির হয়ে যাবে।
মাহিদের এই ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করে এহেসান চৌধুরী লিখেন, যে মানুষটা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য রক্ত দেওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত থাকত, তাকে কিনা দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত করে হত্যা করল।
নিহত মাহিদে সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি প্রয়াত এ্যাডভোকেট মো. আবদুস সালাম এবং সিনিওর সদস্য এ্যাডভোকেট আমিনা বেগম চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র। তারা দুই ভাই ও দুই বোন। তার বড় বোন আফসানা সালাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক, আরেক বোন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিজি) চিকিৎসক এবং ভাই প্রবাসী।
এদিকে, তার ফেসবুকে ওয়ালে ঢুকে দেখা যায়, লেখক, শিক্ষাবিদ ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত ৫ মার্চ (সোমবার) ঢাকার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তৃতা রাখতে।জানা যায়, নিহত মাহিদ শাবি থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে কিছুদিন বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি বাংলালিংকে চাকুরী করেছেন। এছাড়াও শাবিতে পড়ার সময় তিনি শাবির মাভৈ আবৃত্তি পরিষদের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন এবং শাবিপ্রবি পঞ্চখণ্ড স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি।
শাবির সাবেক ছাত্র ও লেখক সহুল আহমদ মুন্না সিলেটটুডেকে বলেন, মাহিদ ভাই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছিল তার প্রচণ্ড আগ্রহ। একটা চাকুরির সাক্ষাৎকারের জন্যে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল তার, সেটা আর হলো না!
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল জানান, চাকুরি সংক্রান্ত কাজে মাহিদ রোববার রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাবার জন্য রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হন। তিনি রাত ১টার দিকে কদমতলি এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে হাঁটুর পেছনে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে সেখানে অচেতন অবস্থায় পরে থাকতে দেখে এক রিকশাচালক তাকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওয়ানা হলে ক্বীনব্রিজ এলাকায় এলে সেখান থেকে পুলিশ মাহিদকে রাত আড়াইটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহিদ।