Sylhet Today 24 PRINT

নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ ও ইজারা প্রথা বাতিলের দাবিতে সুনামগঞ্জে নৌযাত্রা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ২৭ মার্চ, ২০১৮

হাওর ও হাওরের মানুষ বাঁচাতে নদী খনন, যথাযথভাবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, হাওরে ইজারা প্রথা বাতিল ও প্রকৃত জেলে-কৃষকদের মাছ ধরার অধিকার দেওয়ার দাবিতে সুনামগঞ্জ থেকে দুই দিনের নৌযাত্রা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) সকালে সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার এলাকার সুরমা নদী থেকে এই নৌযাত্রা শুরু হয়েছে।

জেলা ক্ষেতমজুর সমিতি ও জেলা কৃষক সমিতি এই নৌযাত্রার আয়োজন করেছে। বুধবার (২৮ মার্চ) কিশোরগঞ্জ জেলার চামরাঘাট এলাকার গিয়ে এই নৌযাত্রা শেষ হবে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নৌযাত্রা শুরু আগে সাচনাবাজার নৌকা ঘাটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামালগঞ্জ উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অখিল তালুকদার।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, সহসভাপতি প্রকৌশলী নিমাই গাঙ্গুলি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক অর্নব সরকার, কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক সুকান্ত সফি কমল ও আবিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার, সুনামগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমেদ, ক্ষেত মজুর সমিতির নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি নলীনি কান্ত সরকার, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নিরঞ্জন দাস, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি দ্বিপাল ভট্টাচার্য প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে নৌযাত্রা শুরু হয়। সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর লালপুর, গোলকপুর, গজারিয়া, নেত্রকোনা জেলার ঘাগলাজোড়, লিপসা, রসুলপুর হয়ে খালিয়াজুড়িতে গিয়ে প্রথম দিনের যাত্রা শেষ হবে। সেখানে রাত্রি যাপন করবেন নৌযাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। বুধবার সকালে আবার নৌযাত্রা শুরু হয়ে বিকালে কিশোরগঞ্জ জেলার চামরাঘাট এলাকায় গিয়ে দুই দিনের কর্মসূচি শেষ হবে। মঙ্গলবার নৌযাত্রা চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সাতটি পথসভা করেন তাঁরা।

নৌযাত্রা শুরু আগে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘নানা সংকটে এখন হাওর ও হাওরের মানুষ। হাওর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। প্রায় প্রতি বছরই হাওরে ফসলহানির ঘটনা ঘটছে। এতে হাওরের মানুষ দিশেহারা। এবার হাওরের পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব হওয়ায় বোরো আবাদে বিলম্ব হয়েছে। অনেক হাওরে জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ হয়নি। পানি নামছে না। এ জন্য ধেনু ও মেঘনা নদী খনন করতে হবে। এসব নদীর বিভিন্ন স্থানে ভরাট হওয়ার কারণে পানি আটকে আছে। তাই শুধু হাওরের ভিতরের ছোট ছোট নদী খনন করলে সমস্যা মিটবে না। নদীগুলো খনন না করলে হাওর বাঁচবে না, হাওর থাকবে না। দ্রুত ধেনু ও মেঘনা নদী খননের উদ্যোগ না দিলে এক সময় হাওরে বোরো আবাদ বন্ধ হয়ে যাবে।

বক্তারা আরো বলেন, হাওরে প্রকৃত জেলে-কৃষকদের কোনো অধিকার নেই। অথচ তাদের ব্যবহার করে লুটেরা ইজারাদারগোষ্ঠী হাওরকে শেষ করে দিচ্ছে। হাওরগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে ইজারাদারেরা। ইজারা প্রথা বাতিল করে হাওরে প্রকৃত জেলে ও কৃষকদের মাছ ধরার অধিকার দিতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.