নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৭ মার্চ, ২০১৮
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে স্কুলছাত্রী বিউটিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল আসামি বাবুল মিয়াকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ বলছে বাবুলকে গ্রেপ্তার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে তারা। গ্রাম্য শালিসে মীমাংসার চেষ্টা হয়েছিল বলে প্রথম দিকে গ্রেপ্তারের কোন চেষ্টা চালানো হয়নি বলেও জানায় পুলিশ।
গত ১৭ মার্চ সকালে উপজেলার পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওরে বিউটি আক্তারের (১৫) লাশ পাওয়া যায়।
উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটিকে গত ২১ জানুয়ারি তুলে নিয়ে যায় একই গ্রামের মলাই মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া। অপহরণের পর বিউটিকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর কৌশলে বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত ১ মার্চ সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চাঁনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন। মামলাটি ৪ মার্চ শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পাঠায় আদালত। পরে সায়েদ আলী ১৬ মার্চ বিউটিকে লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওই রাতেই সেখান থেকে নিখোঁজ হয় বিউটি।
এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, এই মামলায় গত ১৫ মার্চ আমরা বাবুলের মা কলম চান বিবি (আবুনি) এবং তার বন্ধু ইসমাইল হোনেসকে গ্রেপ্তার করেছি। বাবুল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, বিউটিকে অপহরণের অভিযোগে আগে মামলা হলেও এলাকাবাসী শালিসের দায়িত্ব নেওয়ায় প্রথমদিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়নি। বাবুলকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা যাবে বলে জানান তিনি।
বিউটির বাবা সায়েদ আলী বলেন, “আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ১০ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও বাবুল গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা হতাশ।”