Sylhet Today 24 PRINT

দক্ষিণ সুরমার শিক্ষকের পিটুনিতে হাসপাতালে দশম শ্রেণির ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৮ মার্চ, ২০১৮

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিক্ষকের পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে পড়েছেন এক স্কুল ছাত্রী। তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) দুপুরে সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমীতে এ ঘটনাটি ঘটে। অসুস্থ ছাত্রী জাকিয়া খানম (১৫) বুধবারও বারবার মুর্ছা যাচ্ছে ও শরীরে খিঁচুনি উঠেছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমার শ্রীরামপুর এলাকার সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমীতে মঙ্গলবার মধ্যাহ্ন বিরতির দশম শ্রেণীর ক্লাসে ঢুকেন ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক মওলানা আবুল কালাম। এসময় কয়েজন শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে কথা বলা ও হাসহাসি করছিলো। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবুল কালাম তাঁর হাতে থাকা কাঠের ডাষ্টার দিয়ে জাকিয়া খানমকে মাথায় ও ঘাড়ে পেটাতে থাকেন। শিক্ষকের পিটুনিতে তৎক্ষণাতই মূর্ছা যায় জাকিয়া। পরে জাকিয়ার স্বজনরা তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে জাকিয়া খানম সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানায়, শ্রেণি কক্ষে ঢুকে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল কালাম স্যার আমাকে প্রথমে মাথায় ও পরে ঘাড়ে ডাষ্টার দিয়ে পেটাতে থাকেন। এতে করে তাৎক্ষণিকই আমি মূর্ছা যাই।

জাকিয়ার বাবা দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, জাকিয়া বারবার মূর্ছা যাচ্ছে ও শরীরে খিঁচুনি উঠছে। তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখছেন চিকিৎসকরা।

তিনি বলেন, এঘটনার ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ কবরেছেন। তারা বিষয়টির সুষ্ঠ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মওলানা আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ আছেন জানিয়ে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

সিরাজ উদ্দিন আহমদ একাডেমীর প্রধান শিক্ষক বেলাল আহমদ বলেন, মাওলানা আবুল কালাম ২৩ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে আছেন। কখনো এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিজেও এ ঘটনায় অনুতপ্ত। আমরা আপাতত তাকে ক্লাস থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। অসুস্থ ছাত্রীরও নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.