জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ২৯ মার্চ, ২০১৮
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধগুলোতে পাহারাদার নিয়োগ প্রদানের জন্য সকল পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সভাপতি/সম্পাদককে লিখিতভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত জগন্নাথপুরের ইউএনও অফিস থেকে ৯২টি পিআইসিকে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর হাওরের বোরো ফসলডুবির পর এবার সরকার হাওরের ফসলরক্ষায় অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বেড়িবাঁধগুলো সুরক্ষিত রাখার জন্য বাঁধগুলোতে পাহারাদার নিয়োগ করার জন্য বলা হয়েছে। পাউবোর নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পগুলোতে এখন পাহারাদার নিয়োগ কাজ চলছে।
নলুয়া হাওরের দাসনাগাঁও কুরেরপার প্রকল্পের ১৪ নম্বর পিআইসি সভাপতি চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনধীর কান্ত দাস বলেন, লিখিতভাবে জানানোর পর পরই আমি বাঁধে পাহারাদার নিয়োগ করেছি।
আরেক পিআইসির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজকে (২৮ মার্চ) আমি বেড়িবাঁধে পাহারাদার নিয়োগের লিখিত চিঠি পেয়েছি। বাঁধে পাহারা দেওয়ার জন্য লোক খোঁজা হচ্ছে। এক দুই দিনের মধ্যে পাহারাদার নিয়োজিত করা হবে বলে তিনি জানান।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ উদ্যোগটি সত্যই প্রশংসনীয়। এতে করে বাঁধ সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও জগন্নাথপুর উপজেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান নাসির আহমদ বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি বেড়িবাঁধে একজনকে পাহারাদার নিয়োগের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, দ্রুত প্রকল্পগুলোতে পাহারাদার নিয়োগ দেওয়ার জন্য পিআইসিদের লিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ বছর জগন্নাথপুরের বেড়িবাঁধের জন্য ৯২টি পিআইসি গঠন করে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্র জানা গেছে।