সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৯ মার্চ, ২০১৮
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এনে সুনামগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচনে স তন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) উত্তর আরপিন নগর কেন্দ্রে সংঘর্ষের পর বিকেল সাড়ে ৩টায় স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি ভোট কারচুপি, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার আধা ঘণ্টা পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর চাচাতো ভাই ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমনও নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দুপুর দুইটা পর্যন্ত একটি কেন্দ্রে উত্তেজনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছিল।
এসময় পর্যন্ত বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট নিয়ে কোন অভিযোগ ছিলনা।বেলা ২টার পর উত্তর আরপিন নগরে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী নাদের বখত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গণিউল সালাদীনের সমর্থকদের মধ্যে উত্তর আরপিননগর ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনার জের ধরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল পৌনে ৫টায় লবজান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীনের সমর্থকরা।
সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এসএসআইয়ের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেন পলাশ ও পুলিশের এক সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
বেলা তিনটায় পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষুব্ধ সমর্থকরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্টাইটিকং ফোর্সের একটি গাড়ি ভাংচুর করে এবং তারা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুটের গাড়ি লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উত্তর আরপিন নগর ভোটকেন্দ্রে প্রায় আধা ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসার পর হঠাৎ করেই বিকেলের শেষ সময়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন এ দুই প্রার্থী।