মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | ৩১ মার্চ, ২০১৮
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চলন্ত সিএনজি-অটোরিকশায় কলেজছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে সিএনজি থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হয় ওই ছাত্রী। ঘটনার পর শুক্রবার (৩০ মার্চ) ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলার মুন্সীবাজার জেনুইন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে পরানধর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
মুন্সীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সফিকুর রহমান জানান, মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী জেনুইন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স করতো। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার ট্রেনিং সেন্টার থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজি-অটোরিকশায় চড়ে। এ সময়ে গাড়ির চালক মুন্সীবাজারের মইডাইল গ্রামের আব্দুল মতলিব (২৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে গাড়ির পেছনে বসে। আর গাড়ি চালাতে দেয় কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান হানিফ উল্ল্যাকে (৩০)।
গাড়িটি কিছুদূর যেতেই আব্দুল মতলিব শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময়ে ওই ছাত্রী গাড়ি থামাতে হানিফ উল্ল্যাকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও গাড়ি থামান নি তিনি। এক পর্যায়ে সম্ভ্রম বাঁচাতে গাড়ি থেকে লাফ দেয় ওই ছাত্রী। এতে তার হাত, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মৌলভীবাজার সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে মৌলভীবাজার জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এড. রাধাপদ দেব সজল ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক পঙ্কজ রায় মুন্না শুক্রবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে আহত কলেজ ছাত্রীকে দেখতে যান এবং ঘটনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ওই ছাত্রী মা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় ছাত্রীর কাকা বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার উল্লিখিত দু'জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুকতাদির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।