বিশেষ প্রতিবেদন | ১৫ জানুয়ারী, ২০১৫
সিলেটে গত ১০ বছরে ১৩ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষ একদম লাপাত্তা কিংবা দুর্বৃত্ত ধারা অপহৃত হয়েছেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও হদিস মেলেনি তাদের । তারা বেঁচে আছেন নাকি খুন হয়েছেন জানা যায়নি তাও । খুন হয়ে থাকলে কোথাও না কোথাও লাশ পাওয়ার কথা। সেরকম কোন ক্লুও পাওয়া যায়নি । এই মানুষগুলোর কি পরিণতি হয়েছে অনেক অনুসন্ধান তদন্ত করেও কূল কিনারা করতে পারেনি প্রসাশন । স্বজনরা জানতেও পারছেন না তাদের এইসব প্রিয়মানুষগুলোর সর্বশেষ পরণতির কথা । এরকম কিছু হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা ফের জানতে তোলে ধরা হল পাঠকদের সামনেঃ-
চার বছরের শিশু স্নিগ্ধার পরিবারে শোকের মাতম চলছে গেল এক বছর ধরে। নগরীর ভাঙ্গাটিকর এলাকায় বাসার সামনে থেকে গত বছরের ২১ জুলাই দুর্বৃত্তরা অপহরন করে শিশুটিকে। একজন শিক্ষক আরেকজন সরকারী চাকুরীজীবী দম্পতির একমাত্র সন্তানটিকে হারিয়ে এই পরিবার এখন দিশেহারা। স্নিগ্ধাকে উদ্বারের দাবীতে সিলেটে মানব বন্ধন হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত আবেদন করেছে স্নিগ্ধার পরিবার। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। আর ব্যবসায়ী শমসের আলীর পরিবারে নেমেছে অমানিশা।
গত বছরের ১৫ এপ্রিল সিলেট নগরীর মিরের ময়দান এলাকা থেকে দুই চোখ বেধেঁ দুর্বৃত্তরা অপহরণ করেছিল এই ব্যবসায়ীকে। পুরো সিলেট বাসীকে দুশ্চিন্তায় রেখেছে যে অপহরন ঘটনা সেটি হচ্ছে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীসহ ৪ ব্যক্তির এক সাথে গুম হওয়ার ঘটনা। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে শুধু এই চার পরিবারে নয় গোটা সিলেট বাসীর মধ্যে একটা অজানা উৎকণ্টা বিরাজ করছে। এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছরে সিলেট জেলায় ১৩ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, স্বনামখ্যাত রাজনীতিবিদ, প্রতিথযশা ডাক্তার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি, মসজিদের ইমাম এবং অবুঝ শিশু। এরা মারা গেছেন নাকি বেচেঁ আছেন এই সংশয়ে দিন কাটে ১৩টি পরিবারের।
২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকা থেকে ইয়াহিয়া নামে এক ব্যবসায়ী নিখোজ হন। নিখোজের ৫ দিন পর ইয়াহিয়ার স্ত্রী মুন্নি সিলেট বিমান বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। ডায়রি নং ৫২৯। ৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে জকিগঞ্জ উপজেলার জোবেদ আলী স্কুলের ছাত্রী জমিলাকে (ছদ্মনাম) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার সিরাজপাড়া গ্রামের মরহুম কতুব উদ্দিনের নিখোজ হওয়া এই মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যায়নি আজ অবধি।
২০১২ সালের ১১ জানুয়ারী ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ। এই নিখোঁজের প্রতিবাদ করে সিলেটের বেশ কয়েকটি জনসভায় বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম ইলিয়াস আলী। এর কয়েকমাস পর এম ইলিয়াস আলী তাঁর গাড়ি চালকসহ আরো চার ব্যক্তি নিখোঁজ হন ১৭ এপ্রিল ২০১২ তারিখে। এই নিখোঁজের প্রতিবাদে সিলেটসহ সারাদেশে হরতাল অবরোধসহ নানা কর্মসূচী পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে আরো তিন ব্যক্তিকে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিতে হয়েছে। বিন্তু নিখোঁজ হওয়া চার ব্যক্তির একজনেরও হদিস বের করতে পারেনি দেশের দেশের কোন প্রশাসন।
এ ছাড়াও ২০০৩ সালের ২০ ফেব্রয়ারী রাজধানী ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেটের স্বনামখ্যাত চিকিৎসক মেজর (অবঃ) ডাঃ রুকন উদ্দিন চৌধুরী। আজ দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তাঁর কোন সন্ধান মেলেনি। ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর নগরীর উপশহরের ই ব্লকের ৭৫ নং বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সহোদর রফিক উদ্দিন থানা পুলিশসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তার ভাইয়ের কোন হদিস পাননি। কোটিপতি এই ব্যবসায়ীর পরিবার দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চোখের জলই ফেলছেন।
২০০৬ সালের ১৩ নভেম্বর সিলেট পুলিশ লাইন হাই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র মাশিয়ানকে তুলে নেয় দুর্বৃত্ত চক্র। ৮ বছর ধরে পথ চেয়ে বসে আছেন মাশিয়ানের পরিবার। কিন্তু সিলেটের প্রশাসন এই অবুঝ শিশুটির সন্ধান দিতে পারেনি আজও।
২০০৭ সালের ২৮ জুলাই নিখোঁজ হন সদর উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ইমাম ক্বারী আব্দুল গণি। এ ছাড়াও গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি গোলাপগঞ্জ উপজেলা পয়েন্ট থেকে নিখোঁজ হন কাকলি পাল নামে এক তরুণী। তার ভাই কল্লোল পাল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। কিন্তু মামলার কোন কিনারা করতে পারেনি পুলিশ