Sylhet Today 24 PRINT

মা-ছেলে খুন: মূল পরিকল্পনাকারী নাজমুল, জড়িত ছিলো তানিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৯ এপ্রিল, ২০১৮

সিলেট নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়ায় রোকেয়া বেগম ও তাঁর ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ছিলো নাজমুল ইসলাম। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো তানিয়া (২২)।

সোমবার ভোরে তানিয়াকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)-এর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক এ তথ্য জানান।

এর আগে গত মঙ্গলবার শাহপরান থানার বটেশ্বর থেকে ওই এলাকার মুর্তিচক গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে নজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নজমুল পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

গত ১ এপ্রিল নগরীর মিরাবাজারের মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দরজার তালা ভেঙ্গে পচন ধরা মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই বাসা থেকে রোকেয়া শিশু কন্যা রাইসা আক্তার (৫) কে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর রাইস পুলিশ ও গণমাধ্যমকে বলে- ‘তানিয়া আন্টি মা ও ভাইয়াকে মেরেছে। আমাকেও মারধর করেছে।’

এরপর থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত হতে থাকে তানিয়ার নাম। তানিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অবশেষে সোমবার সকালে কুমিল্লার তিতাস থেকে তানিয়া (২২) কে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

সোমবার দুপুর পিবিআই’র সিলেট কার্যালয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, রোববার সন্ধ্যায় নগরীর বন্দরবাজার থেকে তানিয়ার কথিত স্বামী ইউসুফ খান মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে কুমিল্লার তিতাসের ঘোষকান্দিতে তানিয়ার  পিত্রালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি মা-ছেলে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নাজমুল। তানিয়া এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলো। পরবর্তীতে বিষদ তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত বলা যাবে।

তিনি জানান, তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া মামুন তার এক আত্মীয়ের ট্রাভেলস এজেন্সিতে কাজ করেন।

তানিয়াকে গ্রেপ্তার করলেও তানিয়ার সাথে রোকেয়ার কিভাবে পরিচয় তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পিবিআই। স্থানীয়দের কেউ কেউ তানিয়াকে ওই বাসার গৃহকর্মী আবার কেউ রোকেয়ার বান্ধবী হিসেবে চেনেন। তবে রোকয়ার ভাই ও এই হত্যা মামলার বাদী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তিনি তানিয়া নামের কাউকে চেনেন না।

একইভাবে ভাবে তানিয়া ও রবিউলের মধ্যে কি সম্পর্ক তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পিবিআই’র সিলেট অঞ্চলের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমরা এ মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত না। এরপরও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বিশেষ নির্দেশে আমরা ছায়া তদন্ত করছি।

গত মঙ্গলবার নজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিতালি ১৫/এ নম্বরের তিনতলা বাড়ির নিচ তলায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন রোকেয়া বেগম। তিনি পার্লার ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। গত ১ এপ্রিল  বাড়ির ভেতরে থাকা রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসার কান্না ও পচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে দুপুরে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে রোকেয়া বেগম ও এবছর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের লাশ উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শিশু রাইসাকে। ওই রাতেই সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.