নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ এপ্রিল, ২০১৮
‘চেয়েছিলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার’,'বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই', 'কোটা নয়, মেধা চাই'- এমন নানা স্লোগান সকাল থেকে মুখর সিলেটের চৌহাট্টা পয়েন্ট।
সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে সকাল থেকে চৌহাট্টা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় সিলেটের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে মূহূমূহ স্লোগান দিতে থাকে তারা।
দুপুরের দিকে সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজসহ আরো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল করে এসে এই অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নেয়।
দুপুর থেকে স্লোগানে স্লোগানে প্রকল্পিত হয়ে উঠে পুরো চৌহাট্টা এলাকা। কোটাসংস্কারের দাবির সাথে সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর একটি মন্তব্যের প্রতিবাদেও স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সকাল থেকে জিন্দাবাজার চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার-চৌহাট্টা, আম্বরখানা-চৌহাট্টা ও নাইওরপুল-চৌহাট্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে পুরো নগরীতে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট।
বুধবার সকাল থেকেই সিলেটের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে জড়ো হতে থাকেন নগরীর চোহাট্টা এলাকায়। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মাইকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
এসময় তারা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘বুদ্ধিবৃত্তি মুক্তি পাক, কোটা প্রথা নিপাত যাক’, ‘কোটা দিয়ে কামলা নয়, মেধা দিয়ে আমলা চাই’, ‘৫৬ ভাগ কোটা মানি না, মানব না’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
বর্তমানে দেশে পাঁচ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য। প্রতিবন্ধীর জন্য এক শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ। সব মিলিয়ে কোটার জন্য বরাদ্দ ৫৬ শতাংশ।
ফলে এর কোনো শ্রেণিতে যারা পড়েন না, তাদের প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে বাকি ৪৪ শতাংশের জন্য।