সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১২ এপ্রিল, ২০১৮
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া (ঘোড়ামারা সাতপাকিয়া জলমহাল দখল নিয়ে বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের (তিন খুন) ঘটনার মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সিআইডি পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন।
গত ৪ এপ্রিল আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (দিরাই জোন) এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক মো. জহিরুল হক কবির। অভিযোগপত্রে ১৪ জন আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য সুপারিশ এবং ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দিরাই পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, হাতিয়া গ্রামের আমির হোসেন, কুলঞ্জ গ্রামের এমাদ মিয়া, টংগর গ্রামের মোস্তফা মিয়া, আনহার মিয়া, সানোয়ার মিয়া, মৃত নৌশাদ মিয়া (মামলার পরে মৃত্যুবরণ করেন), কুলঞ্জ গ্রামের অভি চৌধুরী, হাতিয়া গ্রামের এনামুল হক লিলু, দিরাই পৌরসভার মেয়ার মোশারফ মিয়ার দুই ছেলে উজ্জ্বল মিয়া ও তসবির মিয়া এবং চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা দৈনিক যুগান্তরের দিরাই উপজেলা প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান লিটনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
নানা তদন্তে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হাতিয়া গ্রামের আহাদ মিয়া, কুলঞ্জ গ্রামের মাসুক মিয়া, সুহেল মিয়া চৌধুরী, সয়ফুল মিয়া, রাড়ইল গ্রামের কাদির মিয়া, তহুর মিয়া, টংগর গ্রামের কাউসার মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, হাতিয়া গ্রামের আশিক মিয়া, কাউছার, কুলঞ্জ গ্রামের এহিয়া চৌধুরী, হাতিয়া গ্রামের লেবাস মিয়া, আমজাদ হোসেন, আবিদ মিয়া, তেতৈয়া গ্রামের সাদির মিয়া, রাজু মিয়া, আকিলনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন, সুড়িয়ারপাড়ের সাদ্দাম, রাড়ইল গ্রামের সিজিল মিয়া, জারুলিয়া গ্রামের কালাম মিয়া, হাতিয়া গ্রামের আলকু মিয়া, টংগর গ্রামের ইয়াকুব আলী, লিটন, রিপন মিয়া, হাতিয়া গ্রামের আলী আকবর, জগন্নাথপুর থানার সজনশ্রী গ্রামের শাহীনুর রহমান শাহীন ও জয়নগর কুচাই গ্রামের সালেহ আহমদ মুন্না, দিরাইয়ের কুলঞ্জ গ্রামের রুস্তম, টংগরের আলামিন, রামপুরের সানুর চৌধুরী সানুর মিয়া, টংগরের রাসেল, রাড়ইল গ্রামের তুহিন চৌধুরী, রসুলপুর গ্রামের আলফু মিয়া, আকিলশাহ্ গ্রামের আলিম, কুলঞ্জ গ্রামের জেবুল অরফে জেবুকে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের ঘোড়ামারা সাতপাকিয়া (জারুলিয়া) জলমহালে মাছ ধরা ও এর দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে হতাহতের ঘটনা ঘটে। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি জলমহাল দখল নিয়ে দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে হাতিয়া গ্রামের মৃত সান উল্লাহ’র ছেলে তাজুল ইসলাম, মৃত আমান উল্লাহ’র ছেলে উজ্জ্বল মিয়া ও ইছহাক মিয়ার ছেলে শাহারুল মিয়াসহ তিনজন মারা যান। ১১ জনসহ আরও অনেকেই আহত হন। এ ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি ৩৯ জনকে আসামী করে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন আওয়ামী লীগ নেতা হাতিয়া গ্রামের একরার হোসেন।
মামলার বাদী একরার হোসেন বলেন,‘রাজনৈতিক প্রভাব এবং অনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে এই অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়েছে। আমি এই অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী দেব।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. জহিরুল হক কবির বলেছেন,‘আমি তদন্তে যা পেয়েছি, অভিযোগ পত্রে তা উল্লেখ করেছি। কারও মুখের কথায় কিছু আসে যায় না।’
দিরাই থানার ওসি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এই মামলা প্রথমে পুলিশ তদন্ত করেছিল। পরে সিআইডিতে স্থানান্তর হয় এবং সিআইডির পরিদর্শক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।’