Sylhet Today 24 PRINT

ইলিশের কেজি হাজার টাকা ছাড়িয়েছে

দেবকল্যাণ ধর বাপন |  ১২ এপ্রিল, ২০১৮

বাংলা নববর্ষের সাথে ইলিশ মাছের কি সম্পর্ক এটি রীতিমত বিসিএসের প্রশ্ন হতে পারে। সম্পর্ক থাকুক আর না থাকুক, ইলিশ এখন বর্ষবরণের অন্যতম অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে।  পান্তা-ইলিশ ছাড়া যেন বাঙালির নতুন বছর অপূর্ণই থেকে যায়!

ফলে নতুন বছর এলেই বাড়ে ইলিশের চাহিদা। চাহিদা যত বাড়ে তারচেয়েও কয়েকগুণ বেশি বাড়ে দাম। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ইলিশের বাজার যথারীতি আকাশছোঁয়া।

শনিবার বৈশাখের প্রথম দিন। বাঙালির নতুন বছর শুরু হবে এদিন। নববর্ষ উপলক্ষে বেড়ে গেছে ইলিশের দাম। সিলেটের বাজারগুলোতে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ মাছও বিক্রি হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়।

চৈত্র-বৈশাখ ইলিশের জন্য উপযুক্ত মৌসুম নয়। জাটকা রক্ষা ও ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে এই সময়ে চাঁদপুরসহ দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। তবু থেমে নেই ইলিশের বেচাকেনা। নববর্ষ উপলক্ষে এখনো চাহিদার শীর্ষে ইলিশ।

সরেজমিনে নগরীর কাজিরবাজার, লালবাজার, রিকাবীবাজার, আম্বরখানা মাছবাজার ও মদিনা মার্কেট মাছবাজার ঘুরে ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ দেখা গেলেও মাছ বিক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন আকাশছোঁয়া। এসব বাজারে বড় আকারের ইলিশের পাশাপাশি মাঝারি, ছোট ও জাটকা মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে মাছ ব্যবসায়ীদের।

মাছ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা হিমাগারে সংরক্ষণ করা ইলিশ বিক্রি করছেন। পাশাপাশি নদী থেকে ধরা ইলিশও আসছে প্রচুর, যা বাজারে তাজা মাছ হিসেবে আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নগরীর লালবাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা দুই কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের প্রতি ইলিশের দাম হাঁকাচ্ছেন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ১ কেজি ওজনের ১টি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও ছোট আকারের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এদিকে ১ কেজি জাটকার দাম ৫৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

মাছের বাজারে ইলিশের দাম চড়া কেন জানতে চাইলে কাজির বাজারের মাছ বিক্রেতা চান মিয়া বলেন, "মামা বৈশাখ আসলে এমনেই ইলিশের দাম বাড়ে।"

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, "এমনিতেই বৈশাখের শুরুতে ইলিশ মাছের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। আর চাহিদা অনুযায়ী মাছে সরবরাহ কম। এদিকে সরকার এসময় ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে।" এসব কিছু মিলে মাছের দাম বেড়ে যায় বলে জানান এ মাছ বিক্রেতা।

এদিকে আম্বরখানা বাজার ঘুরে দেখা যায়, দাম যতই চড়া হোক না কেনো ক্রেতাদের ঝোঁক তাও ইলিশের দিকেই। ক্রেতাদের এ ঝোঁক কাজে লাগিয়ে বাজারে চলছে অন্য মাছের বদলে ইলিশের একচেটিয়া ব্যবসা।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও বাজারে লোকসমাগম এতোটাই বেশি যে, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে যাওয়াই দায় হয়ে যায়। তবু ইলিশ কিনতে ক্রেতার চেষ্টার কমতি নেই।  উপচেপড়া ক্রেতার চাহিদা পূরণে একই জায়গায় পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

দাম যাই হোক ইলিশ ছাড়া পহেলা বৈশাখ হবে কি করে? তাই ১৬০০ টাকা করেই ৩ টি ইলিশ কিনতে হয়েছে গৃহিণী তাহমিনা আক্তারকে। দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলেন, ইলিশের যা দাম তাতে আমার সপ্তাহের বাজার হতো। কিন্তু ছেলে মেয়েদের কথা ভেবেই বেশি দাম দিয়ে হলেও নিতে হচ্ছে। বছরে একটা দিন, এমন উৎসবের দিনে পান্তা ইলিশ ছাড়া মানায় না।

নগরীর রিকাবীবাজারে মাছ কিনতে আসা সোহাগ আহমদ নামের এক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, গত কয়েকদিন ধরে শুনছি ইলিশের দাম কমেছে। তাই আজ বাজারে এলাম দেখে শুনে কম দামে ভালো মানের ইলিশ কিনতে। কিন্তু এসে দেখি মাছের দাম অনেক চওড়া। মাঝারি সাইজের এক হালি ইলিশ মাছ নিয়েছি। দাম নিয়েছে ২৩শ’টাকা। আমাকে বিক্রেতা জানালো ৪টি ইলিশ সাড়ে ৩ কেজি হবে।

আরিফুর রহমান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, মাছের দাম অনেক বেশি। তবে এখানে সময়ভেদে এই ইলিশের দাম নির্ভর করে। কারণ, এখানে ক্রেতার আগমন বেশি হলে দামও বেড়ে যায়। এছাড়াও বিশেষ কিছু দিনে মাছের দাম আরো চড়া হয়।

ইলিশ মাছের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে নগরীর সকল খুচরা মাছ বাজারের বিক্রেতারই এক কথা, একদিকে সরকারের মাছ ধরা বন্ধের ঘোষণা ও নদীতে মাছ কম ধরা পড়া। অন্যদিকে বৈশাখ। এসব অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

শুধু নগরীর বড় বড় বাজারেই নয়, সিলেটের প্রায় ছোট-বড় সব বাজারেই এখন কেবল ইলিশ আর ইলিশ। এছাড়াও বাজারের পাশাপাশি অলিগলি, পাড়া-মহল্লায়ও ফেরি করে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে।  সেই সঙ্গে মেগা শপগুলোতেও এখন প্রচুর ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.