ছাতক প্রতিনিধি | ১৩ এপ্রিল, ২০১৮
ছাতকে হাট-বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষে চূড়ান্ত বিল নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে জাউয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরোধ এখন তুঙ্গে। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে এখন থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন মাত্র ৫ লাখ টাকার প্রকল্পে উপজেলা চেয়ারম্যানের ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করছেন আর উপজেলা চেয়ারম্যান বলছেন নামমাত্র কাজ করিয়ে সরকারী টাকা আত্মসাতের পায়তারা করা হচ্ছে।
এই দুই নির্বাচিত প্রতিনিধির কাদা ছুড়াছুড়ির এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে অফিস পাড়ায়।
বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে উপজেলা চেয়ারম্যান কর্তৃক ২ লাখ টাকা ঘোষ দাবীর অভিযোগ তুলেন জাউয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন।
জানা যায়, গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে হাট-বাজার খাত হতে পিরিওডিকেল মেন্টেন্যান্সের অর্থ দ্বারা জাউয়াবাজার উন্নয়নের লক্ষে ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা প্রদান করেন জাউয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন।
প্রস্তাবনা গুলো পিআইসি/কোটেশন/টেন্ডার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের আঙ্গিনা ও রাস্তায় মাটি ভরাটের জন্যে কোটেশনের মাধ্যমে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮১ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মেসার্স সাদিকুর রহমান এন্টারপ্রাইজের নামে প্রদত্ত কার্যাদেশ দেয়া হয়।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মুনসুর মিয়া প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের গুনগতমান সন্তেুাষজনক থাকায় চূড়ান্ত বিল পরিশোধের লিখিত সুপারিশে ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান প্রকল্প তদন্ত করে বিল প্রদানের সুপারিশ করেন।
এক্ষেত্রে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল পূর্নাঙ্গ কাজ হয়নি বলে বেকে বসেন। ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, বিল গ্রহণের জন্য দীর্ঘদিন উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ধন্না দিয়ে আসছেন ঠিকাদার। কাজ সমাপ্তির প্রায় দেড়মাস পর চূড়ান্ত বিলে স্বাক্ষর না করে ১০ এপ্রিল নোট সীটে আলোচনা করুন লিখে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান।
পরবর্তীতে ঠিকাদার জাউয়াবাজার ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলে বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন পরিষদে থাকা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন, ইউপি সদস্য আব্দুল হক ও আঙ্গুর মিয়াকে নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে বিল পরিশোধের ব্যাপারে সুপারিশ করেন। এ সময় চূড়ান্ত বিল পরিশোধের জন্যে তিনি ২ লাখ টাকা দাবী করেছেন বলে অভিযোগ তুলেন।
এব্যাপারে নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান জানান, ঠিকাদারের বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু কিনিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে তা তিনি অবগত নন।
উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল ঘোষ চাওয়ার বিষয়টি সাজানো উল্লেখ করে জানান, এক লক্ষ টাকার মাটির কাজ করে সরকারের ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পক্ষে তিনি নন। কাজে অনিয়ম হওয়ায় বিষয়টি আলোচনা করে কাজ সমাপ্ত করার জন্য তিনি নোট সীটে আলোচনা করুন লিখে দিয়েছেন।