শাকিলা ববি | ১৫ এপ্রিল, ২০১৮
সকালের ঝড়ো হাওয়া, পুব আকাশে কালো মেঘ জানান দিল বৈশাখের আগমনী বার্তা। বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে কত আয়োজন শহরে। চিরায়ত বাঙ্গালী সাজে তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাস, নাচ, গান, শোভাযাত্রা। শহরের বিভিন্ন জায়গা ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে মুখর থাকলেও প্রকৃত বৈশাখের রূপ দেখা যায় গ্রামের মাঠ-ঘাট, উঠানে। মাঠে কৃষাণের ধান কাটা আর বাড়ি উঠনে কৃষাণীর ধান শুকানোর ব্যস্ততায় ফুটে উঠে বৈশাখের আসল রূপ।
গত বছর আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষকের ধানের গোলা ছিল শূন্য। এ বছর জমিতে ধান গাছে থোর আসা মাত্রই শিলা বৃষ্টির কবলে পরেছে কয়েকবার। তাই এ বছরও ধান হারানো শঙ্কায় ভীত ছিলেন কৃষকরা।
আজ পহেলা বৈশাখে ঘুম থেকে উঠেই কাল বৈশাখীর আবাস দেখে, আবারো ধান হারানোর ভয় মনে দানা বাধে কৃষক আলাই মিয়ার ।
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের চামাউরাকান্দি গ্রামের আলাই মিয়া আজকেই পাকাঁ ধান কাটার জন্য সকল আয়োজন শেষ করেছেন। ধান কাটার লোক, মারাই মেশিন সবই প্রস্তুত।
আলাই মিয়া বলেন, ‘কিছু জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। আরো দুইটি জমির ধান আজ কাটতেছি। মরা ধান বেশি তাই ধান কাটার লোক পাওয়া খুব মুশকিল। ’
সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের বাওরকান্দি, চামাউরাকান্দি, জিলকার হাওড়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা। তাই ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই আর ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ওই এলাকার কৃষাণ কৃষাণীরা।
চামাউরাকান্দি গ্রামের কৃষাণী আবিদা খাতুন উঠানে ধান শুকাচ্ছেন আর একটু পরপর আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ঘরে আধা শুকানো ধান আবার আজকে নতুন ধান কাটা হবে তাই সকালের বৃষ্টিতে ভয় পেয়েছিলাম।’ এখনো কিছুটা ভয়েই আছেন তিনি। মাঝে মাঝে বাতাস আর আকাশের মেঘ তার ভয়ের কারণ। তিনি বলেন, ‘রোদ দেখে এই ধান উঠানে দিলাম আবার কয়েক ফুটা বৃষ্টির জন্য আবার ধান তোলতে হয়। সারাদিন এইভাবেই কাটছে।’
নতুন বছর আর বৈশাখের আনন্দ নিয়ে আবিদা খাতুন বলেন, গোলায় নতুন ধান উঠলেই আমাদের আনন্দ। ধান তোলার পরেই নতুন কাপড় আর নতুন চালের পিঠায় বর্ষ বরনের আনন্দ করি আমরা।
বাওরকান্দি গ্রামের কৃষক জলফু মিয়া বলেন, নতুন ধান ভাল ভাবে ঘরে উঠলেই আমাদের বৈশাখ শুরু হয়। নতুন ধান উঠলেই মেয়ে জামাই, নাতি নাতনিকে দাওয়াত দিব। পরিবারের সবার সাথে নতুন কাপড় আর নতুন চালের পিঠায় খেয়েই আমরা বৈশাখ আর নতুন বছরের আনন্দ শুরু হবে।